বেসরকারি এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বদলি বাস্তবায়ন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা, মাননীয় শিক্ষা সচিব, মাউশি, মাদ্রাসা ও কারিগরী অধিদপ্তরের মাননীয় ডিজি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকবৃন্দ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২য় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে উক্ত সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মাইনুদ্দিন, সভাপতি, বাবেশিকফো, মো. জহিরুল ইসলাম, নির্বাহী মহাসচিব, বাবেশিকফো, মোঃ শামীম আহমেদ, উপদেষ্টা, মো: রবিউল ইসলাম, মোঃ তোফায়েল সরকার, সাধারণ সম্পাদক, মো. মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাবেশিকফো, শিশির কুমার নন্দী, সোলেমান হোসেন, দীপক কুমার রায়, আব্দুর রহমান বাহার, রবিউল ইসলাম সোহেলী দাস, সাবরিনা সিদ্দিকা, আবুল কালাম, দিদার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমাজ।
তারা বলেন, বাংলাদেশের এমপিও ভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের প্রায় ৯৭ ভাগ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করে। আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে, শিক্ষার্থীদের কোয়ালিটি শিক্ষা নিশ্চিতকরণে, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে সরকারের জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী অত্যন্ত আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের কিছু দুঃখ কষ্ট আছে। সেগুলো শেয়ার করার জন্যই আজকে আপনাদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।
আপনারা জানেন আমরা সারা। আমরা নিজেদের এলাকা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করছি। বহু দূরে চাকরি করায় আমরা অত্যন্ত অমানবিক জীবন যাপন করছি। বদলির জন্য আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করার ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের সফটওয়্যার ভিত্তিক বদলির ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। বদলির দাবি আদায়ে যে সকল শিক্ষক সংগঠন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আপনারা জানেন যে আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ বিভিন্নভাবে বৈষম্যের শিকার। তাই আজকের এই কর্মসূচিতে আপনাদের মাধ্যমে আমাদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বৈষম্যের বিষয় তুলে ধরছি। এবং এই বৈষম্য গুলি সমাধানের প্রত্যাশা রাখছি।
১. বদলির নীতিমালার বিভিন্ন অসঙ্গতি :
ক. আমাদের বদলি ব্যবস্থা চালু করার জন্য একটি নীতিমালা হয়েছে এবং সেই নীতিমালা অনুযায়ী বদলির সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই নীতিমালায় এমন কিছু অসঙ্গত রয়েছে যে অসংগতির কারণে আমরা বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বদলির ক্ষেত্রে সমস্তরের প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এই সমস্তরের প্রতিষ্ঠানের কারণে হাজার হাজার বদলি প্রত্যাশী শিক্ষক বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা বদলির আবেদন করতে পারছেন না। আমাদের দাবি হলো বর্তমানে বদলীর যে প্রক্রিয়া চলছে এই প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরে পরবর্তী বদলি শুরু হওয়ার আগে সমস্তরের সিস্টেম বাতিল করে সমস্তরের প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সমপদে বদলির সুযোগ দিতে হবে। সমপদে যেহেতু বেতন ভাতার কোন পার্থক্য নেই সেহেতু আমরা অবশ্যই সমস্তরের এই পদ্ধতি বাতিল চাই।
খ. বর্তমান বদলি নীতিমালায় মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি হলো তিনটি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগের পরিবর্তে আবেদন প্রক্রিয়াটি উন্মুক্ত করতে হবে এবং ইয়েস অপশন চালু করতে হবে।
গ. আমাদের বদলির দাবিটি জোরালো হয়েছিল শুধুমাত্র দূরে চাকরি করার কারণে। তাই দূরত্বের ভিত্তিতে বদলির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঘ. স্বামী-স্ত্রী নিজ জেলা ব্যতীত ভিন্ন কোন একই জায়গায় চাকরি করলে তাদেরকে নিজ জেলায় বদলির সুযোগ দিতে হবে।
ঙ.বদলি নীতিমালায় নিজ জেলা এবং উপজেলায় দূরে চাকরিরত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ রাখা হয়নি। চলমান বদলি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অবশ্যই নিজ জেলা এবং উপজেলার মধ্যে দূরে চাকরিরত শিক্ষকদেরকে বদলির সুযোগ দিতে হবে।
চ. আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি বদলি শুরু হচ্ছে। কিন্তু সেখানে উভয় প্রতিষ্ঠানের সম্মতির কথা বলা হচ্ছে। এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই বিষয়টির সমাধান করতে হবে। ম্যানুয়ালি বদলির জন্য শূন্য পদের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেই তালিকা বেশ আগের। তাই বদলি প্রত্যাশী শিক্ষকরা শূন্য পদ না পেয়ে অত্যন্ত হতাশায় আছেন। এই হতাশা কাটাতে বর্তমান যে শুনে পদ আছে সেই শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এবং অতি দ্রুত সফটওয়্যার ভিত্তিক বদলির ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের কারিগরি শিক্ষকদের বদলির অগ্রগতিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। অতি দ্রুত কারিগরি শিক্ষকদেরও বদলির ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুল-কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ প্রধানদের মত মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহ প্রধানদেরকেও বদলির আওতায় আনতে হবে।
২. এমপিও ভুক্ত কর্মচারীদের দুঃখ গাথা :
ক. এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত নৈশ প্রহরীরা অত্যন্ত অমানবিক জীবনযাপন করছেন। শিক্ষকদের ছুটির ব্যবস্থা থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নৈশ প্রহরীদের ছুটির কোন ব্যবস্থা নেই। তাদেরকে ছুটির ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটি অমানবিক বিষয় হলো বাংলাদেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীদেরকে রাত-দিন ২৪ ঘন্টা ডিউটি করানো হয়। সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, আপনারাই বলুন একজন মানুষের পক্ষে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করা কি সম্ভব? তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নৈশ প্রহরীদের ডিউটি সংশ্লিষ্ট একটি নীতিমালা জারির দাবি জানাই। শিক্ষকরা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে অন্য একজন শিক্ষক শ্রেণী কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু নৈশ প্রহরীদের বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আজকের সাংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা জোর দাবি জানাই নৈশ প্রহরীদের বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য একজনের পরিবর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২ জন নৈশ প্রহরী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈশ প্রহরীদেরকে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করানো হয় ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বিনীতভাবে বলব আপনারা দয়া করে একজন মানুষ হিসেবে নৈশ প্রহরীদেরকে ২৪ ঘন্টা ডিউটি না করিয়ে রাষ্ট্রীয় আইনের কর্ম ঘন্টা অনুযায়ী ডিউটি করাবেন আমরা এই প্রত্যাশা রাখছি।
খ. এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ প্রধান এবং শিক্ষকদের নিয়োগ কেন্দ্রীয়ভাবে হলেও অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো কর্মচারীদের নিয়োগও এখনো কমিটির হাতে রয়েছে। কমিটির হাতে নিয়োগ মানেই নিয়োগ বাণিজ্য। এই নিয়োগ বাণিজ্য রুখে দিতে কর্মচারীদের নিয়োগ অবশ্যই কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বহু কর্মচারী পরিবার পরিজন ছেড়ে অনেক দূরে চাকরি করেন। তাদেরকেও শিক্ষকদের মত নিজেদের এলাকায় বদলির সুযোগ দিতে হবে।
৩. প্রতিষ্ঠান প্রধান /সহ প্রধানদের নিয়োগ : সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ আপনারা জানেন ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহ প্রধানদের কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে এখনো মৌখিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে না। অতি দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে উনাদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. বিএড বৈষম্য : মাদ্রাসার শিক্ষকদের মত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকেও প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ১০ বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দিতে হবে।
৫. অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান : অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকরা বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে প্রাপ্য সুবিধা আংশিক প্রদান করা হয়েছে। অবসরের ৬ মাসের মধ্যে সকল প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতে হবে।
৬. প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহ প্রধানদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার যে শর্ত রয়েছে এই শর্ত শিথিল করে প্রধানদের জন্য ১২ বছর এবং সহ প্রধানদের জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতার ব্যবস্থা করতে হবে।
৭. সরকারি মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের গ্রেড বৈষম্য দূর করতে হবে।
৮. সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং সিনিয়র শিক্ষকের স্কেল বৈষম্য দূর করতে হবে।
৯. সহযোগী অধ্যাপক/সহকারী অধ্যাপকদের প্রভাষকের শূন্য পদে বদলির সুযোগ দিতে হবে।
১০. এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথেই পে-স্কেল দিতে হবে।
১১. এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদেরকে শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া, এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর