গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানববন্ধনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর শাখা।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হোসেন আরমান মাস্টার এবং পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইব্রাহিম প্রধান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে এই দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কালীগঞ্জের কথিত একটি মানববন্ধনের ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। সেখানে চাঁদা দাবি, জমি দখল, হামলা, মাদক কারবার, মিথ্যা মামলা, হয়রানি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে।
দলটি দাবি করেছে, প্রচারিত ওই মানববন্ধনের বিষয়টি বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি একটি সম্পূর্ণ সাজানো, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ড। তাদের তথ্য অনুযায়ী, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা নন—এমন বহিরাগত, মুখোশ পরা ও ভাড়াটে লোকজনদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী, ফ্যাসিস্ট ও কথিত ‘বট বাহিনী’র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে এই ধরনের অপপ্রচারে ইন্ধন ও সমর্থন জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমত প্রভাবিত করার যেকোনো অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি।
আরো স্পষ্ট করা হয় যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা উচিত। কিন্তু সাজানো মানববন্ধন, বহিরাগত লোকজন ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমন্বিত অপপ্রচারের মাধ্যমে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে: ১. কথিত মানববন্ধনে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের পরিচয় ও স্থানীয় সম্পৃক্ততা যাচাই করা হোক। ২. মানববন্ধনটি কী উদ্দেশ্যে এবং কার অর্থায়ন বা পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজন করা হয়েছে, তা তদন্ত করা হোক। ৩. প্রচারিত ছবি, ভিডিও ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। ৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি তদন্ত করা হোক। ৫. অভিযোগ সত্য হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিএনপি নেতারা বলেন, দল কখনো অন্যায়ের পক্ষে নয়, আবার মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগের পক্ষেও নয়। সত্যকে আড়াল করে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো ব্যক্তি বা মহলের সম্মানহানি করার অপচেষ্টা কালীগঞ্জের মানুষ মেনে নেবে না। সত্য উদঘাটন হোক, সকল প্রকার দুর্বৃত্তামি ও অপপ্রচার বন্ধ হোক এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক—এমনটাই প্রত্যাশা দলটির নেতাকর্মীদের।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর