সদ্য প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র কোনোভাবেই বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, আগের সরকার অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কার্যকরভাবে ভাবেনি। তবে বর্তমান সরকার এসব শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা শিক্ষা স্রোতধারা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজন হলে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গুণগত পরিবর্তন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা বইয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি।’
তিনি বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত জিপিএ ও সঠিক ফলাফল পেয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, পরীক্ষার ফল ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত যোগ্যতা ও ফলাফল সামনে আনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা ফলাফলের কারণে মূলধারার শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের বিকল্প দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর