• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৭ সেকেন্ড পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৪ দুপুর

সম্পত্তি ভোগদখলের অধিকার নিয়ে আসছে নতুন আইন

ফাইল ফটো

জীবনের দীর্ঘ সঞ্চয়ে গড়ে তোলা একটি বাড়ি। সেই বাড়ির উঠানে সন্তানের শৈশবের স্মৃতি, দেয়ালে পরিবারের অসংখ্য গল্প। বয়সের ভারে একসময় বাবা-মা হয়তো সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নিজেদের সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে চান। কিন্তু মনের ভেতর থেকে যায় একটি অদৃশ্য ভয়—সম্পত্তি দিয়ে দেওয়ার পর যদি একদিন নিজের ঘরেই নিজের জায়গা না থাকে?

দেশের বহু পরিবারের পরিচিত এই বাস্তবতায় এবার আইনি সুরক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা স্বামী-স্ত্রী সম্পত্তি দান করার পরও যাতে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। বিলটি পাস হলে নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার আইনগত স্বীকৃতি পাবে।

আইনটির পেছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক চিন্তা—সম্পত্তি হস্তান্তর করলেই যেন একজন বাবা-মাকে তার পরিচিত ঘর, বসতভিটা কিংবা জীবনযাপনের নিরাপত্তা হারাতে না হয়।

দান করেও থাকবে ভোগদখলের অধিকার

বর্তমানে সম্পত্তি দানের বিভিন্ন আইনি পদ্ধতি থাকলেও দাতা জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রেখে দান করতে পারবেন—এ বিষয়ে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। ফলে সন্তান বা নিকটজনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে অনেক প্রবীণ বাবা-মাকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত আইনে মূলত এই জায়গাতেই পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিলটি সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ‘আজীবন ভোগদখলের অধিকার’ সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানকে হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে এ ধরনের সম্পত্তি দান করতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও একই ধরনের হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।

তবে স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের দান নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে।

মালিকানা যাবে, নিরাপত্তা থাকবে

প্রস্তাবিত আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারবেন।

অর্থাৎ সন্তান বা অন্য কোনো নিকটজনের নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও বাবা-মা তাদের বসতবাড়ি বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন বাবা তার একমাত্র বাড়িটি সন্তানের নামে দান করলেন। দলিলে যদি তার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষিত থাকে, তাহলে মালিকানা হস্তান্তরের পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ওই বাড়িতে বসবাস এবং সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।

এমনকি সন্তানের মৃত্যু হলেও দাতার এই অধিকার শেষ হবে না।

বিলে বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে এবং তা সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

অর্থাৎ উত্তরাধিকারী পরিবর্তিত হলেও একজন বৃদ্ধ বাবা বা মা তার জীবনকালীন নিরাপত্তা হারাবেন না।

বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিকার পরিবর্তনের সুযোগ

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী এই অধিকার পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।

আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক কিংবা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে আজীবন ভোগদখলের অধিকার পরিবর্তন, প্রত্যাহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়া, প্রয়োজনীয় তদন্ত করা এবং আবেদনটি সৎ বিশ্বাসে করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হবে।

প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থা বহাল থাকবে

সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আইন কোনো প্রচলিত দান বা হেবা ব্যবস্থাকে বাতিল কিংবা সীমিত করবে না।

সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি আগের মতোই বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থাটি হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

শেষ আশ্রয়টুকু নিরাপদ রাখার চেষ্টা

সম্পত্তি শুধু ইট-পাথর, জমি কিংবা অর্থের হিসাব নয়। একটি বাড়ি অনেক সময় একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা। সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সন্তান পালনের স্মৃতি, দাম্পত্য জীবনের গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং শেষ বয়সে একটু নিশ্চিন্তে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন বাবা-মাকে সেই নিরাপত্তাটুকু হারাতে না হয়—প্রস্তাবিত আইনের মানবিক দিকটি মূলত সেখানেই।

সরকারের উদ্যোগ সফল হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দাতাও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

ফলে ‘সম্পত্তি দিয়ে দিলেই সব হারাতে হবে’—এমন আশঙ্কার পরিবর্তে তৈরি হতে পারে একটি আইনি নিশ্চয়তা।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলটি এখন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার অপেক্ষায়। আইনটি পাস হলে সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রচলিত ব্যবস্থায় যুক্ত হবে একটি নতুন মানবিক সুরক্ষা—সম্পত্তি যাবে উত্তরসূরির কাছে, কিন্তু জীবনের শেষ আশ্রয়টুকু নিরাপদ থাকবে দাতার হাতে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]