• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১০ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০৬ বিকাল

তুলসী পাতার উপকারিতা কী কী?

ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির উঠান কিংবা বারান্দার টবে থাকা পরিচিত তুলসীগাছকে আমরা অনেকেই শুধু একটি সুগন্ধি গাছ হিসেবেই চিনি। কিন্তু এই ছোট্ট সবুজ পাতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের ঘরোয়া ও ভেষজ ব্যবহারের ইতিহাস। সর্দি-কাশি থেকে হজমের অস্বস্তি—বিভিন্ন সমস্যায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তুলসী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে লোকজ ব্যবহারের বাইরেও তুলসী নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে। পাতায় থাকা ইউজেনল, রোসমারিনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাকটিভ উদ্ভিজ্জ যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগ্রহ রয়েছে গবেষকদের। তাহলে নিয়মিত জীবনে তুলসী কতটা উপকারী? আর কারা এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

গলা খুসখুস করছে বা হালকা সর্দি-কাশি হয়েছে? অনেকের ঘরেই তখন তৈরি হয় তুলসী চা। গরম পানীয় হিসেবে তুলসী গলা ও শরীরের অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম দিতে পারে। কেউ কেউ এর সঙ্গে আদা বা মধুও যোগ করেন। তবে তুলসী সর্দি-কাশির চিকিৎসা নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা উচ্চ জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মনে রাখুন: এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা হালকা হজমের সমস্যায় তুলসী ব্যবহারের প্রচলন বহু পুরোনো। তুলসীর কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি বা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও নানা দুশ্চিন্তায় মানসিক চাপ এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী। তুলসীকে ‘অ্যাডাপ্টোজেন’ হিসেবে নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় মানসিক চাপ ও উদ্বেগের ক্ষেত্রে তুলসীর সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই অতিরিক্ত উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যার চিকিৎসা হিসেবে শুধু তুলসীর ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।

তুলসী পাতার অন্যতম আকর্ষণ এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার অর্থ এই নয় যে তুলসী কোনো নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ বা নিরাময় করতে পারে। সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাবারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তুলসী রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে তুলসীর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো নেই। তাই ডায়াবেটিসের ওষুধের পরিবর্তে তুলসী ব্যবহার করা যাবে না। যারা নিয়মিত ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তারা তুলসী নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ছবি: সংগৃহীত

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের কারণে ত্বকের যত্নেও তুলসীর ব্যবহার দেখা যায়। কিন্তু সরাসরি তুলসীর রস ত্বকে লাগালেই উপকার হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ত্বকে ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

তুলসীর কিছু উপাদান রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও প্রদাহের মতো হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে তুলসী খেলে হৃদ্‌রোগ, হার্ট অ্যাটাক বা রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করা যায়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ফলে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় তুলসীকে কখনোই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

কীভাবে খাবেন তুলসী?

তাজা তুলসী পাতা ভালোভাবে ধুয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। চাইলে পাতা দিয়ে চা বা উষ্ণ পানীয় তৈরি করেও পান করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, ‘বেশি খেলেই বেশি উপকার’—তুলসীর ক্ষেত্রেও এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং পরিমিত ব্যবহারই ভালো।

কারা তুলসী খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

ভেষজ উপাদান হলেও তুলসী সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নাও হতে পারে। গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা, শিশু এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের তুলসী নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ কিংবা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।

ছোট্ট একটি পাতার ব্যবহার ঘিরে রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। গবেষণাতেও তুলসীর বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। হালকা সর্দি-কাশির অস্বস্তি, হজম কিংবা মানসিক চাপের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে তুলসী কোনো ‘সব রোগের ওষুধ’ নয়। সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা। সেই জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পরিমিত তুলসী ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]