খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদকে গণমুখী, জনবান্ধব, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা। তিনি বলেছেন, পরিষদের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষকসহ সব ধরনের নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। কোনো ধরনের তদবির, অনিয়ম কিংবা পক্ষপাতিত্বকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা বলেন, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগপ্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। একজন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করার পর থেকেই যেন বিশ্বাস করতে পারেন যে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ায় তার মূল্যায়ন হবে- এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে চান তারা। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অসংগতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে গণমাধ্যমকে তা পরিষদকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়োগসহ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
জেলা পরিষদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণই হবে পরিষদের প্রধান অগ্রাধিকার। জেলা পরিষদ কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী কিংবা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি খাগড়াছড়ির সব মানুষের প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, স্থানীয় অবকাঠামো, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজন, অগ্রাধিকার এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী ও প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের দিকনির্দেশনা, পরামর্শ ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হবে।
এ সময় খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়ার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা নিয়ে জেলার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খাগড়াছড়ির জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন জাতিসত্তা, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সহাবস্থান জেলার অন্যতম সম্পদ। কোনো জনগোষ্ঠী যেন উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা থেকে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে পরিষদ কাজ করবে। উন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনগণের কথা পরিষদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরিষদের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কোনো সমস্যা, অনিয়ম, জনদুর্ভোগ কিংবা দুর্বলতা থাকলে তা দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনাকে ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে দেখা হবে। গণমাধ্যমের জন্য পরিষদের দরজা সবসময় খোলা থাকবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিয়াস মেহেদী, নবনিযুক্ত সদস্য এম এন আবছার, মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য সহ অনেকেই বক্তব্য দেন।
এ সময় জেলা পরিষদের সদস্য ক্ষেত্র মোহন ত্রিপুরা, দেব রানী চাকমা, খনি রঞ্জন ত্রিপুরা, কুহেলী দেওয়ান, তাছলিমা সিরাজ সীমা, নারায়ণ ত্রিপুরা, রুমেল মারমা, রিপল চাকমা, শান্তিপ্রিয় চাকমা, মংসাপ্রু চৌধুরী ও ক্যরী মগসহ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর