সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বেগম খালেদা জিয়া কখনো আপস করেননি।
রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের’ উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান—সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন এসব কথা বলেন।
‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের’ সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের নেতা লায়ন মোহাম্মদ ফারুক রহমান প্রমুখ।
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট করাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল যেকোনো কারণ ছাড়া ওয়াকআউট করে, এটা খুব দুঃখজনক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট যাকেই দেন না কেন, পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কিন্তু কুশলবিনিময় করেছেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু দেশনেত্রীই ছিলেন না, উনি একটি ইনস্টিটিউট। ম্যাডামের গণতান্ত্রিক চর্চা হচ্ছে দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। ম্যাডাম দাঁড়ি-টুপি এবং ভিন্নমতকে অনেক সম্মান করতেন।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে শামীম কায়সার লিংকন বলেন, ‘অনেক সময় কোনো ইস্যু না থাকলে আপনাদের প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু কর্মসূচি আমরা দেখতে পাই। আপনাদের উচিত জুলাই যোদ্ধারা ঠিকমতো ট্রিটমেন্ট পাচ্ছে কি না, কাদের কতটুকু চিকিৎসা দরকার এবং এগুলোর তালিকা হয়েছে কি না—এগুলো নিয়ে সরকারকে চাপে রেখে জবাবদিহি আনা। আপনাদের আওয়ামী লীগ ইস্যু নিয়ে কথাবার্তা বলা উচিত ছিল। কিন্তু এগুলো বাদ রেখে আপনারা অন্য ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা এই দেশকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সমস্ত ফ্যাসিজমের জনক। এমন ফ্যাসিজম তারা তৈরি করেছে, বিশ্বের অন্য কোনো রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট হতে চাইলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তারা রিসার্চ করে শিখে নিতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য জামায়াত ও এনসিপি ক্ষমতায় গিয়ে এক দিনের জন্যও দেশ চালাতে পারবে না। দেশ পরিচালনার সেই যোগ্যতা তারা এখনো অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে জেলায় যতটুকু সার যাবে এবং যে ডিলার যতটুকু সার পাবেন, তাঁকে ততটুকুই বিক্রি করতে হবে—এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, কোন জেলায় যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই সার বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং তা জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। আশা করা যায়, সারের সংকট খুব দ্রুত কেটে যাবে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এর জন্য বিএনপি দায়ী কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে রানা প্লাজা ধসের মতো ঘটনাতেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরের চক্রান্তের কথা বলেছিল। এখন জামায়াত ও এনসিপিও সেই পথ অনুসরণ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে পুঁজি করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করে রাশেদ খান বলেন, একটি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ গ্যাস খাতের প্রতি অবহেলা করেছে। নতুন কূপ খনন ও গ্যাস অনুসন্ধানে তাদের কোনো মনোযোগ ছিল না। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কূপ খনন ও গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে। এসব কাজে সময় দিতে হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর