ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট ও ভোগান্তিতে থাকা আশুলিয়া-বেরিবাঁধ মহাসড়কে মিলছে কিছুটা স্বস্তির খবর। এই সপ্তাহের যেকোনো দিন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে আশুলিয়া থেকে বেরিবাঁধ পর্যন্ত তুরাগ নদীর ওপর নির্মিত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস লেন সেতু।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন দুটি সার্ভিস লেন চালু হলে মহাসড়কের যানজট অনেকটাই কমে আসবে। বর্তমানে যে পথ পাড়ি দিতে যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, নতুন সেতু চালু হলে তা অল্প সময়েই অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে আশুলিয়া থেকে বেরিবাঁধ পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজের কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশেষ করে তুরাগ নদীর ওপর দিয়ে আশুলিয়া থেকে বেরিবাঁধ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় যাত্রীদের। দীর্ঘ যানজটের কারণে একদিকে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন পরিবহন মালিক ও চালকরা।
এ অবস্থায় এই সপ্তাহের দুটি সার্ভিস লেন সেতু চালু হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা। তাদের আশা, নতুন সেতু চালু হলে আশুলিয়া-বেরিবাঁধ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের যানজটের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
তবে নতুন ও দীর্ঘ সার্ভিস লেন সেতুকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। বিশেষ করে রাতের বেলায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস-উত্তর) জাহাঙ্গীর আলম জানান, সেতুতে যেকোনো ধরনের অপরাধ ও নিরাপত্তা শঙ্কা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাড়তি পুলিশ টহল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্টের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান,এই সপ্তাহের যেকোনো দিন দুটি সার্ভিস লেন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। নতুন এই সেতু ব্যবহার করতে কোনো ধরনের টোল আদায় করা হবে না।
তিনি আরও জানান, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, দুটি সার্ভিস লেন সেতু চালু হলে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ত এই অংশে যানজটের চাপ কমবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন লাখো যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর