জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) টিনশেড ফুডকোর্ট নির্মাণে প্রথম তিন ধাপে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে প্রকৌশল দপ্তরের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে আরও ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে একই ফুডকোর্ট নির্মাণে দুই দফায় মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
প্রকৌশল দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফুডকোর্ট নির্মাণে তিন ধাপে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৯৭ হাজার, ৫ লাখ ৯৮ হাজার ও ৯৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রথম তিন ধাপে মোট ব্যয় হয় ১২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ফুডকোর্ট ও ড্রেনেজের কাজ এবং তৃতীয় ধাপে বৈদ্যুতিক কাজ করা হয়।
তবে প্রথম তিন ধাপে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের পরও ফুডকোর্টের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। পরে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দে চারটি বেঞ্চ, দুটি ছাতা, একটি সিঁড়ি, রফিক ভবনের দেয়ালে প্লাস্টার, ড্রেনের ওপর ঢাকনা, ফুডকোর্টের পেছনে একটি বারান্দা, একটি এসএসের টেবিল, একটি রেক, একটি ক্যানোপি শেড, সলিং, গাইড ওয়াল, গার্ডেন, একটি এক্সহস্ট ফ্যান ও একটি দরজার কাজ করা হয়েছে।
প্রথম তিন ধাপের ১২ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সঙ্গে নতুন বরাদ্দের ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা যোগ হলে ফুডকোর্ট নির্মাণে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম তিন ধাপে প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের পরও কেন নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি এবং পরবর্তীতে একই ফুডকোর্টে আরও ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকার প্রয়োজন হলো? নতুন বরাদ্দের আওতায় করা কাজগুলো প্রথম প্রাক্কলনে ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অতিরিক্ত এই ব্যয় শিক্ষার্থীদের মনেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ ফুডকোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা ও প্রাক্কলনের যথার্থতা এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমিন বলেন, “ফুডকোর্টের বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। এ বিষয়ে প্রকৌশল দপ্তর জানে।”
অতিরিক্ত এই ব্যয় নিয়ে জবির প্রধান প্রকৌশলী বলেন, “এখানে অনেক কাজ করা হয়েছে, তাই এই ব্যয়।”
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর