মাত্র ৪ মাস ৬ দিনের শিশু ফুয়াদ। জন্মের পর থেকেই তার পায়খানা সাদা, শরীর ও চোখ হলুদাভ। ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে পেট। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়েছে জটিল রোগ ‘বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া’। এরই মধ্যে শিশুটির কচি শরীরে একবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু সেটি সফল হয়নি। এখন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে বাঁচাতে প্রয়োজন লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট। এতেও হাল ছাড়েননি ভুবন।
নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে হলেও সন্তানকে বাঁচাতে চান তিনি। মায়ের কাছে নিজের লিভারের মূল্য হয়তো কিছুই নয়; সন্তানের একটি নিঃশ্বাসই তার কাছে সবচেয়ে বড়। কিন্তু লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য যেতে হবে ভারতের চেন্নাইয়ে।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসা করাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা। বিপুল এই অর্থের কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। এরই মধ্যে ফুয়াদের চিকিৎসায় প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে- যার সবটুকুই ঋণ করে, জমি বন্ধক রেখে। পরিবারের আর সামর্থ্য নেই।
ফুয়াদের বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন হৃদয় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোষাকান্দা গ্রামের বর্গাচাষী মো. রতন মিয়ার ছেলে। জীবিকার প্রয়োজনে সাত মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। দেশে থাকাকালে অটোরিকশা চালাতেন। হৃদয়ের স্ত্রী ভূবন আক্তার বিথী শেরপুর সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী। তিন বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন বছর পর তাদের ঘর আলো করে আসে একমাত্র সন্তান ফুয়াদ। সন্তানকে নিয়ে তাদের স্বপ্ন ছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল নানা পরিকল্পনা। কিন্তু জন্মের পর থেকেই সেই স্বপ্ন যেন হাসপাতালের বিছানায় বন্দি হয়ে গেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়েট্রিক সার্জারি ও পেডিয়েট্রিক ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সামিউল হাসান-এর তত্ত্বাবধানে ফুয়াদের চিকিৎসা চলছে। স্বভাবতই অসুস্থ সন্তানকে বুকে নিয়ে একটু সহযোগিতার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলেছেন মা ভুবন আক্তার বিথী। তার চোখে-মুখে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা যেন কাটছেই না। তবু একটাই স্বপ্ন- ফুয়াদ যেন বেঁচে থাকে। এই স্বপ্ন থেকেই তিনি চান মানুষের একটু সহযোগিতা। সবার সামান্য সহযোগিতায় হয়তো ছোট্ট ফুয়াদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকা বাবা আব্দুল্লাহ আল মামুন হৃদয় যেন আরো অসহায়। দূর প্রবাসে থেকেও সন্তানকে বাঁচাতে রাখতে পারছেন না কোনো ভূমিকা। যে সন্তানকে এখনো সরাসরি এক নজর দেখতে পারেননি, তাকে আদৌ দেখতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে তার উদ্বেগ যেন কাটছেই না।
মা ভূবন আক্তার বিথীর আকুতি, আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে নিজের লিভার দিতে চাই। চিকিৎসকরা বলেছেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে। কিন্তু এত টাকা আমাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সবাই যদি একটু একটু করে সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারব।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর