নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য মো. সোহরাব হোসেন তাঁর দুটি পদই হারিয়েছেন। ভিজিডি কর্মসূচির চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে বিক্রি এবং তাঁদের সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর প্রথমে তাঁকে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর তাঁর ইউপি সদস্য পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ গত ১২ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোহরাব হোসেনকে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৫ আগস্ট সিংড়া উপজেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখার ১২ আগস্টের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিডি কর্মসূচির ৭ হাজার ৭৫০ কেজি চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে কর্মসূচির আওতাভুক্ত ২৪৭ জন উপকারভোগীর জমাকৃত সঞ্চয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সোহরাব হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে তাঁর দেওয়া ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁকে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ হারানোর কয়েক দিন পরই তাঁর সাধারণ সদস্য পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রিফাতের স্বাক্ষর করা ২৫ আগস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩২ ধারার উপধারা (২)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৮ আগস্ট থেকে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর