নড়াইলে এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় ওই মাদরাসার এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকের নাম মিরাজ আলী (২৩)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মিরাজ আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার রুদ্রপুর কালিয়া বকরি গ্রামরে আমান উল্লাহ হকের ছেলে। তিনি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
নড়াইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি. পি) মো. আজিবুর রহমান আজিজ দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর গ্রামের দশ বছরের ছেলের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ভুক্তভোগী ওই শিশু নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া তাইছিরুল উলুম মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে লেখাপড়া করত। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই বিকেলে ছেলের জন্য রাতের খাবার মাদ্রাসায় নিয়ে গেলে সে মাকে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের সামনে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়। শিশুর অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ জুলাই রাতে হুজুর মিরাজ আলী তাকে ঘুম থেকে ডেকে নিজের খাটে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশু ব্যথায় কান্নাকাটি করলে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি বাবা-মাকে না জানানোর জন্য বলা হয়। ওই শিক্ষক প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির সঙ্গে একই ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ভয়ে শিশুটি বিষয়টি আগে কাউকে জানাতে পারেনি।
পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজ আলী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে থাকেন। পরদিন ১২ জুলাই সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টার দিকে নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর গ্রামের ইন্ডিয়াপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত মিরাজ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানের আদেশ দেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর