• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪৮ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৪৬ সকাল

ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল-আজরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দুই দিনের মধ্যে দুইবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়। এরপর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, উপসাগরীয় ওমান এলাকায় থাকা এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ ও এম/টি রিয়েস্কো এবং খার্গ দ্বীপের কাছে থাকা এম/টি দেরিয়া ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে এবং পরে সেটির ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সময়ে জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলার কথা জানানো হয়।

এরপর ইরানের আইআরজিসি দাবি করে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের ব্যবহৃত কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডান।

দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার দাবি
ইরানের আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা মার্কিন নৌবাহিনীর DDG-119 ও DDG-53 নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং এতে জাহাজ দুটির ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষতি’ হয়েছে।

পরবর্তী এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিল এবং সেসব জাহাজের ক্রুদের দ্রুত সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

‘ট্যাংকারে হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা’

এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হবে।

তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হবে।

‘যুদ্ধাপরাধ’ বলছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘অবৈধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড’ দেশটির বিরুদ্ধে চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী থাকতে হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যতবার এমন চেষ্টা করবে, ততবারই ইরানকে তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে।

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করায় উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার হামলা-পাল্টা হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

আল জাজিরার ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিবেদক মাইক হানা এই ঘটনাকে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের একটি নতুন মাত্রার ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবেও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]