• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২৮ সেকেন্ড পূর্বে
মোঃ রুবাইয়াত হক
পটুয়াখালি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৫ রাত

নদীভাঙনের তীব্র আগ্রাসন, কবর থেকে কঙ্কাল তুলে অন্যত্র দাফন

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজির হাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনের কবল থেকে বসতভিটা রক্ষায় একে একে ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। এবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে পারিবারিক কবরস্থানও। কবর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় বাবা ও দাদির কঙ্কাল উত্তোলন করে অন্যত্র দাফন করতে বাধ্য হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম মৃধা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজির হাট বাজারের উত্তর পাশে চৌকিদার বাড়ির দরজা থেকে হাজির হাট মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি পরিবার তাদের বসতঘর সরিয়ে নিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দুই শতাধিক পরিবার।

ভাঙনকবলিত এলাকায় বসতভিটার পাশাপাশি রয়েছে পুরোনো কবরস্থান, স্কুলঘর, কৃষিজমি ও বিভিন্ন পরিবারের দীর্ঘদিনের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা। নদী ক্রমেই তীরের দিকে এগিয়ে আসায় যেকোনো সময় এসব স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙন থেকে কবর রক্ষা করতে বাবা ও দাদির কঙ্কাল অন্যত্র দাফন করেছেন নিজাম মৃধা। তার বাবা খলিল মির্জা প্রায় ১৩ মাস আগে এবং দাদি মায়া জান বিবি প্রায় ১১ বছর আগে মারা যান।

নিজাম মৃধা বলেন, “আমার বাবা ও দাদির এখানে কবর ছিল। নদীভাঙনের কারণে কবরগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে কবর থেকে কঙ্কাল উত্তোলন করে অন্যের জায়গায় দাফন করতে হয়েছে। আজকে ঘরও সরিয়ে নিয়েছি। এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে শুধু ঘরবাড়িই নয়, পুরো গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এ এলাকায় তাদের বাবা-দাদাদের কবর, বসতঘর ও কৃষিজমি রয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দুই শতাধিকের বেশি পরিবার বসতভিটা হারাতে পারে।

তারা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীর পাড়ে বসবাস করলেও এখানেই তাদের জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অনেকেই ঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গা পাচ্ছেন না। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “ইতোমধ্যে আমরা উপজেলা পরিষদের কয়েকটি রুম তাদের জন্য প্রস্তুত করেছি। তাদের সহায়তার জন্য যেকোনো বিষয়ে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এখানে যাদের জমি ভেঙে গেছে, তারা চাইলে সরকারি খাসজমি তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। খুব শিগগিরই তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বহু পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]