শরীয়তপুরের জাজিরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট রাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ইতি আক্তার বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন।
এ ঘটনায় গত ৪ সেপ্টেম্বর স্বামী সাজ্জাদ শেখসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধ, শারীরিক নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ইতি আক্তার। অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রফিকুল ইসলাম।
তদন্তের অংশ হিসেবে বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সময় ইতি আক্তারের কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই রফিকুল। ভুক্তভোগীর এক নিকটাত্মীয় সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনের সময় টাকা লেনদেনের জন্য তিনি নিজের বিকাশ নম্বরও প্রদান করেন। এই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডসহ অভিযোগটি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে প্রাথমিক সত্যতা পায় পুলিশ।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান জানান, এসআই রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়া চলছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর