‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঈমান-আকিদা সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা। তারা বলেছেন, কোনো আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ভালো হলেও তাতে যদি কুরআন-সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা থাকে, তাহলে তা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও উদ্বেগের বিষয়। তাই বিলটি পাসের আগে দেশের বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতামত গ্রহণ করে শরিয়াসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হল মিলনায়তনে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬ নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ঈমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজীর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুফতি সালাহ উদ্দিন ও মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর পরিচালনায় এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আবদুর হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী,ড.আহমদ আব্দুল কাদের,মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আবু আম্মার আব্দুল্লাহ, মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, মুফতি আবু বকর সুহাইল, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব উসমানী, মুফতি শামসুদ্দীন কাসেমী, মাওলানা আফসার মাহমুদ, মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী, মুফতি আল আমিন সরাইলী, মাওলানা ইয়ামিন হোসাইন আজমী, মুফতি হিফজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারপ্রধানের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল—কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না। জনগণ সেই অঙ্গীকারের প্রতি আস্থা রেখেছে। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা ইসলামের উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুসলিমদের সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয়ে শরিয়াহর সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। এসব বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন বা বিধান প্রণীত হলে তা ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।
তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আইনটি করতে চাইছেন—এটি আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো আইন শরিয়াসম্মত হয়ে যায় না। প্রস্তাবিত সংশোধনীর বাস্তব প্রয়োগে নানা ধরনের জটিলতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি আবেগ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহ, ফিকহ ও প্রচলিত আইনের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনো সময় আছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬ পাস করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, মুহাদ্দিস, ফকিহ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধান অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধন করুন এবং মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় ও পারিবারিক অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এ দেশের আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে জনগণের ঈমান-আকিদা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শরিয়াহর বিধানকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো সংশোধনী যেন মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতামত গ্রহণ করে কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো ধারা থাকলে তা বাদ দিয়ে অথবা সংশোধন করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধন বিল-২০২৬ পাস করা হোক।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর