হাসি-ঠাট্টা জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে নিছক বিনোদনের নামে কাউকে বিদ্রূপ, অপমান বা ছোট করা ইসলামের শিক্ষা নয়। কারণ, একটি সামান্য কৌতুকও কখনো কখনো মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করতে পারে এবং মনে গভীর কষ্টের জন্ম দিতে পারে।
ইসলাম কৌতুক বা আনন্দকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে এমন হাসি-ঠাট্টা থেকে বিরত থাকতে বলেছে, যা অন্যের মনঃকষ্টের কারণ হয় কিংবা শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন করে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আর আমি তো আদমসন্তানকে সম্মানিত করেছি...”
(সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৭০)
মানুষের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, “হে মুমিনগণ, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রূপকারীদের চেয়ে উত্তম।”
(সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)
যেসব বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা নিষিদ্ধ
১. দ্বীন ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ঠাট্টা
আল্লাহ, পবিত্র কুরআন, রাসুলুল্লাহ (সা.), সুন্নাত কিংবা ইসলামের কোনো বিধান নিয়ে বিদ্রূপ করা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কুরআনে এ ধরনের আচরণ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
(সুরা আত-তওবা, আয়াত ৬৫-৬৬)
২. শারীরিক গঠন বা সীমাবদ্ধতা নিয়ে উপহাস
কারও উচ্চতা, গায়ের রং, শারীরিক গঠন বা কোনো শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে হাসাহাসি করা অনুচিত। এসব নিয়ে কৌতুক মানুষের মনে গভীর কষ্ট সৃষ্টি করতে পারে।
৩. বিকৃত বা অপছন্দনীয় নামে ডাকা
কারও নাম বিকৃত করা কিংবা তাকে অপমানজনক নামে ডাকা ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা একে অপরের নিন্দা কর না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।”
(সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)
৪. কারও বিপদ, ব্যর্থতা বা অতীতের ভুল নিয়ে হাসাহাসি
মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে, আবার জীবনে নানা বিপদেও পড়তে পারে। কারও দুর্দশা, ব্যর্থতা বা অতীতের ভুল নিয়ে উপহাস করা একজন মুমিনের চরিত্র হতে পারে না।
৫. দারিদ্র্য বা আর্থিক অবস্থা নিয়ে ঠাট্টা
কারও পোশাক, জীবনযাপন, আর্থিক অসচ্ছলতা বা সাধারণ জীবন নিয়ে উপহাস করাও ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। হাদিসে অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করাকে মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য যথেষ্ট বলা হয়েছে।
রসিকতায়ও ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা
ইসলাম জীবনকে নিরানন্দ করতে চায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে কৌতুক ও রসালাপ করতেন। তবে তাঁর কথায় কখনো মিথ্যা, অন্যায় বা কারও প্রতি অপমান থাকত না।
সাহাবিরা একবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনিও কি আমাদের সঙ্গে কৌতুক করেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তবে আমি সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলি না।”
(তিরমিজি, ১৯৯০)
হাসি-ঠাট্টা আনন্দের উৎস হতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনো কারও সম্মানহানি বা কষ্টের কারণ না হয়। অন্যের শারীরিক গঠন, দারিদ্র্য, ভুলত্রুটি কিংবা দ্বীনের বিষয় নিয়ে বিদ্রূপ থেকে জবানকে সংযত রাখাই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।
সত্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের সীমার মধ্যে থাকা হাসি-ঠাট্টাই হতে পারে সুন্দর ও ইসলামসম্মত বিনোদন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর