বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে খেলতে পারেননি এনামুল হক বিজয়সহ নয় ক্রিকেটার। ফিক্সিংয়ের সন্দেহে তাদের নাম নিলামের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, স্পট ফিক্সিং নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটির ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের বিপিএলে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তবে তদন্ত কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তৈরি হয়েছে নতুন চাঞ্চল্য। প্রায় ১১ মাস পর তিনি জানিয়েছেন, তার প্রতিবেদনে কোনো ক্রিকেটারকে সরাসরি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়নি। বরং কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্শাল বলেন, তদন্ত কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গোপনীয়ভাবে কাজ করেছে। কাকে তদন্ত করা হবে, কীভাবে তদন্ত হবে—এসব বিষয়ে বাইরে থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, কোনো অভিযোগ পেলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং অ্যান্টি-করাপশন কোড লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকলেই তদন্ত শুরু হয়।
মার্শালের ভাষ্য, কোনো দল অস্বাভাবিকভাবে খারাপ খেললেই সেটিকে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় না। তদন্তের ক্ষেত্রে সাক্ষীদের বক্তব্য, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়।
তদন্ত শেষে সাধারণত তিন ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়—অভিযোগ আনার মতো শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত করার সুপারিশ, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে পর্যবেক্ষণে রাখা এবং কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া।
৯ ক্রিকেটার নিয়ে যা বললেন মার্শাল
নয় ক্রিকেটার প্রসঙ্গে মার্শাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তাই তাদের বিপিএল-১২-তে আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই নয়জনকে তিনি আলাদাভাবে নির্বাচন করেননি। প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি ব্যক্তির নাম ছিল। তাদের মধ্যে যারা বিপিএলের দ্বাদশ আসরে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখতেন, তাদের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল।
আগামী বিপিএলে তারা খেলতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্শাল বলেন, ওই পরামর্শ কেবল বিপিএল-১২-এর জন্য প্রযোজ্য ছিল। বর্তমানে তাদের কারও ক্রিকেট খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা নেই, কারণ তাদের কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি।
অ্যালেক্স মার্শালের ভাষায়, ‘তাদের কেউই অভিযুক্ত হয়নি। তাই তারা ক্রিকেট খেলতে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন।’
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর