রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মোঃ জহুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রামপালের ইউনিট-২ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো ইউনিট বন্ধ হলে পরিদর্শন ও মেরামতের আগে সেটি কুল ডাউন বা ঠান্ডা করতে হয়। ইউনিটটি এখন সেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
মোঃ জহুরুল ইসলাম জানান, ত্রুটির প্রকৃতি নির্ণয়ে ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা রয়েছে। তাঁরা এসে ইউনিটটি পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করার পর এটি কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরতে পারবে, তা বলা সম্ভব হবে।
এদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে কয়লা সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত নিশ্চিত হওয়ায় দুটি ইউনিট থেকেই স্বাভাবিক গতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তখন কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। ইউনিট-২ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট সচল রয়েছে। কেন্দ্রটির প্রতিটি ইউনিটের স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ৬৬০ মেগাওয়াট। সাধারণত একটি ইউনিট থেকে ৫৫০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) পরিচালিত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।
দুটি ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে কেন্দ্রটি সাধারণত ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। দ্বিতীয় ইউনিটটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ সরবরাহে এর প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর