কক্সবাজার শহর ও আশপাশের ইউনিয়ন এলাকায় রাত-দিন বিশেষ অভিযান চালিয়েছে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে চোর-ছিনতাইকারী, মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় এক কিশোরের কাছ থেকে চোরাই স্বর্ণ ও একটি আইফোন উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে তিনজন চোর বা ছিনতাইকারী, নয়জন মাদকসেবী, দুজন পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি এবং একজনকে ধর্তব্য অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কক্সবাজার পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন অপরাধীদের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, চোর বা ছিনতাইকারী হিসেবে গ্রেপ্তার তিনজন হলেন কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ তারাবনিয়ারছড়ার মো. আমির হাকিম (৩৪), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়ার আরাফাত ওরফে ছোট আরাফাত (২৫) এবং পিএমখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ধনখালী ঘোনারপাড়ার রাফি মনি (১৫)।
পুলিশ বলছে, আমির হাকিমের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় আগের দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর করা একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪৫৭ ও ৩৮০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অপর মামলাটি পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায়। আরাফাত ওরফে ছোট আরাফাতের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় একটি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে রাফি মনিকে গ্রেপ্তারের সময় চোরাই স্বর্ণ ও একটি আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। মাদকসেবনের অভিযোগে ৯ জন অভিযানে মাদকসেবনের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন নুর মোহাম্মদ তাসনিন (২৫), লোকমান মোহাম্মদ হোসেন (৩৭), রহিম উল্লাহ (২৮), সাখাওয়াত হোসেন (২৬), এমরান খান (২৮), মো. রাজু (৪০), মো. আবদুল্লাহ (২০), শ্রাবণ আচার্য (২০) ও রাম প্রসাদ দে (২০)। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অন্যরা রামু ও উখিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবে মোহাম্মদ আলম ও বেলাল উদ্দিন সাইফীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদ আলম কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেশকারপাড়া নতুন প্রজেক্ট এলাকার বাসিন্দা। আর বেলাল উদ্দিন সাইফী (২২) সাহিত্যিকা পল্লীর বাসিন্দা। এ ছাড়া ধর্তব্য অপরাধে হুমায়ুন কবির আজাদ (২০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ঝিলংজা ইউনিয়নের লিংক রোড এলাকার মুহুরীপাড়ার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, শহর ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে ছিনতাইকারী ও চোরচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর