গাড়ির ভেতরে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় ভারতীয় এক সেনাসদস্যের করুণ মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বিহার রাজ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। মূলত আগুনের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে আট দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, শত্রুঘ্ন যাদব নামের ওই সেনাসদস্য বিহারের কাইমুর জেলার রামগড় থানার সাহুকা গ্রামের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রামগড়ে বিক্ষোভ করেন বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী। এ সময় তারা ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
পাশাপাশি মামলাটি পুলিশ যেভাবে পরিচালনা করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিক্ষোভকারীরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত একটি বিরোধের জেরে যাদবকে রামগড়ে ডেকে নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, তাকে একটি গাড়ির ভেতরে আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত সেনাসদস্যকে প্রথমে বারানসির ট্রমা সেন্টারে নেয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা তাকে লখনৌয়ের একটি সেনা হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে যাদবের মৃত্যুর খবর সাহুকা গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা রামগড়ের দিকে মিছিল নিয়ে যান। এ সময় তারা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ঘটনায় দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা দুর্গা চকে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এছাড়া কয়েকজন বিক্ষোভকারী রামগড় থানার কাছেও জড়ো হন এবং থানা ঘেরাও করার হুমকি দেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রামগড়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে সেখানে অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার পাশাপাশি এসডিএম ও ডিএসপিও অবস্থান করেন।
পুলিশ সুপার শিখর চৌধুরী বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই ঘটনায় যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (এসএইচও) ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে কথিত হামলার ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তদন্তে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি কীভাবে ঘটেছিল এবং ঘটনায় অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর