• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩২ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২২ বিকাল

রাতে ফোটে, দিনে বন্ধ হয়ে যায়—কিছু ফুল এমন কেন?

ছবি: সংগৃহীত

সূর্য ডুবলেই পাপড়ি মেলে, রাতের অন্ধকারে ছড়ায় সুগন্ধ; আবার সকাল হলেই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় ফুল। প্রকৃতির এই অদ্ভুত নিয়মের পেছনে রয়েছে ফুলের জৈবঘড়ি, আলো-তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং রাতের পরাগবাহীদের সঙ্গে এক বিশেষ সম্পর্ক।

সূর্য ডুবলেই কেন জেগে ওঠে কিছু ফুল?

দিনের আলোয় অধিকাংশ ফুলের পাপড়ি খোলা থাকে। কিন্তু কিছু ফুল ঠিক উল্টো আচরণ করে। সন্ধ্যা নামার পর তারা পাপড়ি মেলে ধরে, আর ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভিদবিজ্ঞানে ফুলের পাপড়ির এমন নিয়মিত খোলা-বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে nyctinasty বলা হয়। এটি উদ্ভিদের দৈনিক ছন্দ বা circadian rhythm-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সব ফুল একইভাবে বা একই কারণে খোলে-বন্ধ হয় না; আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থাৎ, ফুলের এই আচরণ অনেকটা উদ্ভিদের নিজস্ব জৈবঘড়ির সঙ্গে যুক্ত।

ফুলেরও জৈবঘড়ি আছে, যদিও মানুষের ঘড়ির মতো নয়। উদ্ভিদের কোষে এমন জৈবিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা দিন-রাতের নিয়মিত পরিবর্তন থেকে সময়ের ছন্দ তৈরি করতে সাহায্য করে। ফলে কোনো কোনো ফুল প্রতিদিন প্রায় নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি পাপড়ি মেলে বা বন্ধ করে।

তবে শুধু অন্ধকার হলেই ফুল বন্ধ হয়ে যায়—বিষয়টি এত সরল নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ফুলের খোলা-বন্ধ হওয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া কয়েক মিনিটে ঘটে, আবার কোনো কোনো ফুলের পাপড়ি খুলতে বা বন্ধ হতে কয়েক ঘণ্টাও লাগতে পারে। 

ছবি: সংগৃহীত

রাতের অতিথিদের জন্য ফুলের ‘নাইট শিফট’

রাতে ফুল ফোটার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাখ্যাগুলোর একটি হলো পরাগায়ন। দিনের বেলায় ফুলে ভিড় করে মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো পরাগবাহীরা। কিন্তু রাত নামলে তাদের জায়গা নেয় মথ বা নিশাচর পতঙ্গ এবং বিশ্বের কিছু অঞ্চলে বাদুড়।

Smithsonian Gardens-এর তথ্য অনুযায়ী, অনেক রাতের ফুলের পাপড়ি সাদা বা হালকা রঙের হয় এবং তীব্র মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়। চাঁদের আলো বা অল্প আলোতেও এই হালকা রঙ সহজে চোখে পড়ে। ফলে অন্ধকারে সক্রিয় মথ ফুলটি খুঁজে পেতে পারে। Smithsonian National Museum of Natural History-ও বলছে, মথ সাধারণত রাতে খোলা ফ্যাকাশে রঙের ফুলে পরাগায়ন করে। অন্যদিকে কিছু বাদুড়ও রাতে খোলা বড় ও সুগন্ধি ফুলের পরাগায়নে ভূমিকা রাখে।

অর্থাৎ ফুলের ‘রাতের শিফট’ অনেকটা এমন—দিনে মৌমাছি-প্রজাপতি, রাতে মথ-বাদুড়। এভাবে ফুলটি তার সম্ভাব্য পরাগবাহীদের জন্য সময় ভাগ করে নেয়।

রাতে ফোটা ফুলের মধ্যে রয়েছে—

Moonflower:এর প্রচলিত বাংলা নামগুলো হলো দুধিয়া কলমি, চন্দ্রপুষ্প, চন্দ্রাবতী বা হলকলমি। অনেক সময় একে আক্ষরিক অর্থে চাঁদফুল বা মুনফ্লাওয়ার লতাও বলা হয়। নামটির মধ্যেই রয়েছে চাঁদের ইঙ্গিত। এর বড় সাদা ফুল সন্ধ্যার পর খুলতে শুরু করে এবং রাতের বেলায় বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

Evening primrose: নামের অর্থই সন্ধ্যার সঙ্গে যুক্ত। এর ফুল সন্ধ্যার দিকে খুলে রাতের পরাগবাহীদের আকর্ষণ করতে পারে। এর ফোটাসন্ধ্যা বা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে একে বাংলায় অনেক সময় 'সন্ধ্যাতারা ফুল' বা 'আযান ফুল' বলা হয়।

Night-blooming jasmine: রাতে এর সুগন্ধ বিশেষভাবে অনুভূত হয়। গন্ধের মাধ্যমে নিশাচর পরাগবাহীদের আকর্ষণ করার প্রবণতা রাতের ফুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এর বাংলা নাম হলো হাসনাহেনা (বা হাস্নুহানা)। একে অনেক সময় রাতরাণী বা নিশীধনী নামেও ডাকা হয়।

Night-blooming cactus: কিছু ক্যাকটাস প্রজাতির ফুল রাতেই ফোটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বন্ধ হয়ে যায়। বড়, সাদা ও সুগন্ধি ফুলের মাধ্যমে তারা রাতের পরাগবাহীদের আকর্ষণ করে।

Smithsonian-এর তথ্য অনুযায়ী, four o’clocks, moonflowers এবং tobacco-সহ বিভিন্ন ফুলে রাতের মথের পরাগায়ন দেখা যায়।

শুধু পরাগায়ন নয়, তাপমাত্রারও ভূমিকা আছে

ফুলের পাপড়ি খোলা ও বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশের তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফুলের opening ও closure অনেক ক্ষেত্রে আলো, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার মতো পরিবেশগত সংকেতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই একটি ফুল কেন রাতে খোলে—তার একমাত্র কারণ পরাগায়ন, এমন সিদ্ধান্ত সব প্রজাতির ক্ষেত্রে দেওয়া যায় না। অর্থাৎ প্রকৃতির এই ‘ঘড়ি’ আসলে কয়েকটি সংকেত একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে।

এখানে বিজ্ঞানীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করিয়ে দেন—সব ফুলের খোলা-বন্ধ হওয়ার সুবিধা একই নয় এবং প্রতিটি প্রজাতির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট evolutionary কারণ সবসময় নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে রাতের ফুলের ক্ষেত্রে নিশাচর পরাগবাহীদের সঙ্গে সম্পর্কটি বেশ পরিষ্কার। ফুল যখন ঠিক সেই সময়ে খোলে, যখন তার উপযোগী পরাগবাহীরা সক্রিয় থাকে, তখন পরাগায়নের সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ফুলের পাপড়ি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য সম্ভাব্য সুবিধার সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। 

ছবি: সংগৃহীত

দিনের ফুল আর রাতের ফুলের পার্থক্য কোথায়?

দিনের ফুল সাধারণত দিনের আলোতে সক্রিয় পরাগবাহীদের আকর্ষণ করার মতো বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে। উজ্জ্বল রং, দৃশ্যমান nectar guide এবং দিনের বেলায় সক্রিয় মৌমাছি বা প্রজাপতির উপস্থিতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে রাতের ফুলে দেখা যেতে পারে—সাদা বা ফ্যাকাশে পাপড়ি, তুলনামূলক শক্তিশালী সুগন্ধ, রাতে বেশি পরিমাণে বা সহজে পাওয়া যায় এমন nectar, দীর্ঘ বা নলাকার ফুলের আকৃতি, মথ বা বাদুড়ের মতো নিশাচর পরাগবাহীর সঙ্গে সম্পর্ক।

Smithsonian Gardens-এর তথ্যেও রাতের ফুল ও মথের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উল্লেখ রয়েছে। 

ছবি: সংগৃহীত

আমরা সাধারণত ফুলকে দিনের সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। কিন্তু প্রকৃতিতে কিছু ফুলের জীবনযাত্রা যেন একেবারে উল্টো—দিনে ঘুম, রাতে জাগরণ। সূর্য ডুবে গেলে পাপড়ি মেলে ধরে তারা। অন্ধকারে ছড়িয়ে দেয় সুগন্ধ। অপেক্ষা করে এমন সব অতিথির জন্য, যারা দিনের বেলায় দেখা যায় না।

তাই রাতে ফোটা ফুল নিছক প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; এটি আলো-অন্ধকারের ছন্দ, উদ্ভিদের জৈবঘড়ি এবং পরাগায়নের এক চমৎকার সমন্বয়।

অদ্ভুত হলেও সত্য—ফুলের পৃথিবীতেও ‘নাইট শিফট’ আছে।

বাপ্পি/সা.এ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]