যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদ থেকে চৌগাছার অটো ভ্যানচালক ইখলাস (২৯) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং ছিনতাই হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ইখলাস চৌগাছার মাধবপুর গ্রামের সানাউল হোসেনের ছেলে।
আটককৃতরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের মেহেদী হাসান ও বিষহরি গ্রামের আশরাফুল আলম। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে ইখলাস ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। এ ঘটনায় ২০ সেপ্টেম্বর চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়ায় কপোতাক্ষ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করলে পরিবারের সদস্যরা তা ইখলাসের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ইখলাসের বাবা বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নামে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের একটি দল। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রথমে মেহেদী হাসানকে সদর উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গঙ্গানন্দপুর থেকে আশরাফুল আলমকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, ভ্যানটি ছিনতাই করে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইখলাসকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করানো হয়। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে এবং পানিতে চুবিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে চারটি ইট বেঁধে কপোতাক্ষ নদে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল।
আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর