বরগুনাকে বিশ্বমঞ্চে পর্যটন জেলা হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান এবং নদী সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে পালিত হলো বিশ্ব পর্যটন ও বিশ্ব নদী দিবস। রবিবার বেলা ১২টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতে পালিত হয় বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজন। এরপর একই স্থান থেকে বের করা হয় বিশ্ব নদী দিবসের ও বিশ্ব পর্যটন দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালি।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন এ জেড এম সালেহ ফারুক। সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পর্যটন উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বরগুনার পর্যটন শুধু বিনোদনের খাত নয়; এটি হতে পারে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বিকাশের বড় ক্ষেত্র। জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব।
বরগুনা শহরের সুরঞ্জনা ট্যুরিজম ইকোপার্ক, তালতলীর টেংরাগিরী ইকোপার্ক, সোনাকাটা ও শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত এবং পাথরঘাটার হরিণঘাটা, লালদিয়া, বিহঙ্গদ্বীপ ও নিদ্রার চর জেলার পর্যটনের বড় আকর্ষণ। এসব কেন্দ্রকে ঘিরে পর্যটন অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ, প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি এবং পর্যটকবান্ধব পরিবেশ তৈরির দাবি জানান বক্তারা।
তারা বলেন, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে পর্যটন টেকসই হয় না—প্রয়োজন নিরাপদ যোগাযোগ, মানসম্মত থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও সেবাব্যবস্থা। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে পর্যটন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরগুনার উপকূলীয় সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা গেলে এ জেলা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর