কোস্টারিকায় জব্দ করা প্রায় ৪৫ টন কোকেন ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ উড়োজাহাজ। দুই দেশের মাদকবিরোধী সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বিপুল পরিমাণ এই মাদক যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। পরে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ানাপোলিসে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করার কথা রয়েছে।
কোস্টারিকার আলাজুয়েলায় অবস্থিত দেশটির এয়ার সার্ভেইলেন্স সার্ভিসের 'বেস-২' থেকে কোকেনের চালানটি নেওয়া হয়। ঘাঁটিটি রাজধানী সান হোসে সংলগ্ন হুয়ান সান্তামারিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই অবস্থিত।
দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে এসব কোকেন জব্দ করে। এসব অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারও সহযোগিতা করেছে।
কোস্টারিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ধ্বংসের জন্য পাঠানো কোকেনের প্রকৃত ওজন ৪৪ হাজার ৬শ' ৯৭ দশমিক ১৩ কেজি।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসের রিওয়ার্ল্ড সলিউশন্সে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৬ সেপ্টেম্বর কোকেনগুলো ইনসিনারেশনের মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা ছিল।
দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ জব্দ করা মাদক ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত শিল্প সক্ষমতা কোস্টারিকায় নেই। বিশেষকরে, একসঙ্গে, এত বিপুল কোকেন পুড়িয়ে ধ্বংস করতে গেলে পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এজন্য পুরো প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। কোস্টারিকার কর্মকর্তারা কোকেনগুলো সিল করে সামরিক পরিবহনের উপযোগী প্যালেটে সাজান। এরপর সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে নেওয়া হয়।
মাদকের ‘চেইন অব কাস্টডি’ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কোস্টারিকার একজন বিচারকও চালানটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মার্কিন ডিইএ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি, দেশটির বিমানবাহিনীর লোডমাস্টাররা বিমানের কার্গো ডেকে মাদক পরিবহনের ব্যবস্থাপনায় অংশ নেন।
প্রায় এক লাখ পাউন্ড ওজনের অবৈধ মাদক পরিবহনে এত বড় সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের অভিযানে ভারী বিমান পরিবহনের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সাধারণত আঞ্চলিক পর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযানে 'সি-১৩০' হারকিউলিসের মতো পরিবহন উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হলেও বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে সরিয়ে নিতে 'সি-১৭'-এর মতো কৌশলগত পরিবহন বিমান বেশি কার্যকর।
এর আগেও বিপুল পরিমাণ জব্দ করা মাদক ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহনে 'সি-১৭' ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন জব্দ করা অবৈধ মাদক এক দফায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইনসিনারেশন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
মাদকবিরোধী আঞ্চলিক সহযোগিতায়ও মার্কিন বিমানবাহিনীর ভারী পরিবহন উড়োজাহাজ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন অংশে রাডার সরঞ্জাম, বিশেষায়িত মাদকবিরোধী ইউনিট এবং মোবাইল অপারেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবহনে এসব বিমান ব্যবহারের নজির রয়েছে।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর