বহু বছর ধরে শত্রুর সঙ্গে সংঘাত চললেও একই মাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডারের এক উপদেষ্টা।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী বেলালি এ দাবি করেন।
বেলালি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি অভিযানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এর মাধ্যমে শত্রুকে জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে বোঝানো হচ্ছে যে, হামলা করে কোনো প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি না হওয়ার সময় শেষ হয়েছে।
‘সেক্রেড ডিফেন্স উইক’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সরঞ্জাম দেশীয় প্রযুক্তিতে ইরানেই তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান বৈশ্বিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর পথ আটকে দিতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বেলালি বলেন, ওই যুদ্ধে ইরান মোট ৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তখন এসব অস্ত্র ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সেগুলোর খরচ পুরোপুরি বহন করার সক্ষমতা ইরানের ছিল না। ফলে যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র একবারে একটি করে এবং সীমিত সংখ্যায় ব্যবহার করতে হতো।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সীমাবদ্ধতা আর নেই বলে দাবি করেন এই আইআরজিসি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এখন প্রতিটি অভিযানে প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
বেলালির ভাষ্য, ইরান এখন এমনভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, যাতে প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে যে হামলা করে দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ আর নেই। সাম্প্রতিক একটি অভিযানের উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ সীমিতসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করলেও ইরান তার কয়েক গুণ বেশি জবাব দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলেও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান অব্যাহত রাখার মতো সক্ষমতা বর্তমানে ইরানের রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর