বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও এলাকায় সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা (ডিভিবি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক নিউইয়র্কে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বর্তমানে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ এই বিমান হামলার ঘটনা পরিস্থিতির বাস্তবতাকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার কিয়াউকতাও শহরের একটি বাজার ও এর কাছের কিসাপানাদি সেতু এলাকায় ওই বিমান হামলা চালানো হয়। অঞ্চলটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত আরাকান আর্মি (এএ) দাবি করেছে, হামলায় ৫০ জন নিহত ও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় মানবিক সহায়তাকর্মী ওয়াই হুন অংও হতাহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে নারী ও শিশুদেরও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের দপ্তর জানিয়েছে, হামলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের বিবৃতি অনুযায়ী, সোমবার ব্যস্ত সময়ে ওই হামলা চালানো হয়। তখন ২০০টির বেশি দোকান থাকা বাজারটিতে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বাজারটিতে রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু, দাইনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ ব্যবসা করতেন।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুকা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল, বেসামরিক নাগরিক ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার ঘটনায় সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সব ধরনের উপায় ব্যবহার করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
তবে এ বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে দেশটির সামরিক বাহিনী দাবি করে আসছে, বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোট দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস সংঘাতের সব পক্ষকে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থার কর্মীদের নিরাপদ, টেকসই ও বাধাহীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর