৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মেধাক্রমে সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মনির হোসেন। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানিয়েছেন মনির।
মনির হোসেন জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে মেধাক্রমে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পর দেখতে পান, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মনির। তার দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী হিসেবে থাকার সময়ও তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
মনির বলেন, ‘আমি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। ৪৯তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে বোটানিতে মেধাক্রমে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলাম। জুলাই আন্দোলনে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমার হলের সবাই আমাকে চেনে। আমি দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তাবলিগের রুমে ছিলাম। আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে গেজেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশন কীভাবে করা হয়েছে, বুঝতে পারছি না।’
মনিরের পরিচিতজনদের দাবি, ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। তাদের ভাষ্য, মনির অত্যন্ত মেধাবী, সহজ-সরল ও বিনয়ী। এলাকায় তার মতো শান্ত, নম্র ও ভদ্র মানুষ খুব কম রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
মনিরের পরিচিতজনদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের পক্ষে মাঠে ছিলেন। তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবিও রয়েছে বলে তারা জানান।

এ অবস্থায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন মনির ও তার পরিচিতজনরা। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মনিরকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করা হওক।
তাদের ভাষ্য, একজন প্রার্থী যখন বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় মেধাক্রমে দ্বিতীয় হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন, তখন তাকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ ও স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর