তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে খুচরা বাজারে অস্থিরতার মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামেই সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে এলপিজি মজুত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এর আগে আগস্টে আমদানি করা হয় ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার তুলনায় দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
এলওএবি জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয় ও এলওএবির নেতাদের মধ্যে এলপিজির সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সভায় দেশের এলপিজি সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সংগঠনটি আরও জানায়, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কোনো অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করলে বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক অনলাইন সভায় জেলা প্রশাসকদের এলপিজির বাজার পরিস্থিতি কঠোরভাবে মনিটর করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলওএবি।
এদিকে, প্রতি মাসে সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও খুচরা পর্যায়ে সেই দামে সিলিন্ডার বিক্রি না করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকেই বেশি দামে এলপিজি কিনতে হয়, ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সর্বশেষ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোথাও কোথাও সংকটের কথা বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
এ অবস্থায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির বিরুদ্ধে নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
কৃষি, অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর