রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে জুয়েলারি দোকানের মালিককে অচেতন করে প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ টাকা লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে পাংশা থানা পুলিশের একটি দল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১ নম্বর আসামি খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করে।
নবাগত পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, পাংশা থানাধীন নারায়ণপুরের দত্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় ‘নিউ মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে একটি দোকানের মালিক শহিদুল ইসলামের দোকান থেকে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার মধ্যে যেকোনো সময় দোকান থেকে ২০ ভরি স্বর্ণ, ২০০ ভরি রূপা এবং নগদ প্রায় ২ লাখ নগদ টাকাসহ সর্বমোট প্রায় ৬৫ লাখ টাকার মালামাল ও অর্থ চুরি হয়।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখ করে পাংশা মডেল থানায় মামলা করেন। ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটি রুজু করা হয়। মামলা নম্বর-১৯; ধারা-৩২৮/৩৮১ পেনাল কোড।
মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, দোকানের কর্মচারী খন্দকার জায়ফুল ইসলাম লিটন কৌশলে চুরির পরিকল্পনা করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা উঠিয়ে দেওয়ার কথা বলে লিটন ও তার সহযোগী দোকান মালিক শহিদুল ইসলামকে জলিলপাড়ায় লিটনের বোনের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে রসমালাইয়ের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে শহিদুল ইসলামকে খাওয়ানো হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার পকেট থেকে দোকানের চাবি নিয়ে লিটন দোকানে ফিরে আসেন।
পরে দোকানের অন্য কর্মচারীকে কৌশলে বাইরে পাঠিয়ে আলমারি খুলে স্বর্ণ, রূপা ও নগদ টাকা নিয়ে যায় তারা। চুরির পর দোকানের চাবিটি আবার অচেতন শহিদুল ইসলামের পকেটে রেখে তাকে দত্ত মার্কেট মোড়ে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মইনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর আসামি লিটনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে ১৫ ভরি ০১.৫৮ আনা স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণালঙ্কারের বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ ২১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ২২০ ভরি রৌপ্যালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
গ্রেফতার হওয়া আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ নম্বর আসামিসহ অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর