শীত আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে তাপমাত্রা কমার আগেই পোষা কুকুর ও বিড়ালের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্রাণীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই থাকার জায়গা, খাবার, পানি ও টিকার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অপটিমা পেট কেয়ারের চিকিৎসক ডা. মো. তৌফিক ই এলাহীর মতে, শীতকালে কুকুর ও বিড়ালের মধ্যে ক্যাট ফ্লু বা ফেলাইন আপার রেসপিরেটরি ইনফেকশন, কেনেল কফ, প্যারভো ভাইরাস সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওআর্থ্রাইটিস, হাইপোথার্মিয়া এবং শীতকালীন ডার্মাটাইটিস বা ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
থাকার জায়গা হোক উষ্ণ ও আরামদায়ক
শীত শুরুর আগেই পোষা প্রাণীর থাকার জায়গা প্রস্তুত করে রাখা ভালো। জানালা বা দরজার পাশ দিয়ে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস আসে—এমন জায়গায় তাদের শোয়ার ব্যবস্থা না করাই ভালো।
মেঝের ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার জন্য বিছানায় মোটা কম্বল বা কুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট জাতের বা কম পশমযুক্ত কুকুর-বিড়ালের জন্য শীতের জ্যাকেট বা সোয়েটারও প্রস্তুত রাখা যায়।
প্রয়োজনে ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হিটার ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত তাপ ও আগুন বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।
শীতের আগেই টিকা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা
শীত আসার আগে পোষা প্রাণীকে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ভালো। একই সঙ্গে ফ্লু, কেনেল কফসহ প্রয়োজনীয় টিকাগুলো সময়মতো দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
পোষা প্রাণীর শরীর বা আচরণে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

খাবার ও পানিতে বাড়তি নজর
শীতকালে পোষা প্রাণীর খাবারের দিকেও নজর দিতে হবে। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফ্যাট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তৌফিক ই এলাহী। তবে প্রাণীর বয়স, জাত, ওজন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
শীতের সময় অনেকেই প্রাণীর পানি পানের বিষয়টি উপেক্ষা করেন। কিন্তু এ সময়ও সবসময় পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা রাখতে হবে। পানি অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে গেলে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া যেতে পারে।
ত্বক ও পায়ের যত্নও গুরুত্বপূর্ণ
ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় পোষা প্রাণীর ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণীকল্যাণ সংস্থা এএসপিসিএর এক প্রতিবেদনে শীতকালে প্রাণীর ত্বকের যত্নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর পোষা প্রাণীর পা পরিষ্কার ও ভালোভাবে শুকিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের বেসরকারী গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনেও শীতকালে পোষা ও পথপ্রাণীর জন্য উষ্ণ ও শুকনো জায়গা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঠান্ডা মেঝে থেকে প্রাণীদের দূরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শীত আসার আগেই পোষা প্রাণীর থাকার জায়গা, খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আর কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না দিয়ে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর