মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়া এবং জি-৭ (G7) জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। তবে ইরান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামোতে আরও হামলার আশঙ্কা থাকায় বাজারে ঝুঁকি এখনো রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৪ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৯০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬২ সেন্ট বা ০.৬৮ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়ায়।
রয়টার্স জানায়, গত শুক্রবার জি-৭ দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের চেয়েও বেশি ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলার ঘটনা সত্ত্বেও এ রপ্তানি বেড়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, জি-৭-এর কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক সরবরাহ-সংকটের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিও যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের দিকে ফিরছে বলে বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় আরও হামলার ঝুঁকি এখনো রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তার মতে, সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি উচ্চ পরিবহন ব্যয় ও কম কার্যকর রুটে তেল পরিবহনের কারণে বাজারে চাপ কিছুটা কমলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের সব এলাকা পুনর্দখলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে সৌদি আরামকো এশিয়ার বাজারের জন্য নভেম্বর মাসের অপরিশোধিত তেলের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কমিয়ে ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলো ব্যাহত হওয়ায় ২০২৭ সালের তেল উৎপাদন কোটা নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা পর্যালোচনা পিছিয়ে দিয়েছে ওপেক প্লাস। এতে ভবিষ্যতে উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর