চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদায় পৃথক অভিযান চালিয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আলমডাঙ্গায় আওয়ামী যুবলীগের দুই নেতা এবং দামুড়হুদায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ গত শনিবার রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে নাশকতা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—ঘোলদাড়ি পাউকপাড়া গ্রামের মৃত আবছার উদ্দিনের ছেলে আইলহাঁস ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস (৫৬) এবং নগর বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত জাহিদ বিশ্বাসের ছেলে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহান বিশ্বাস (৪২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস ও তার লোকজন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আটকে রেখে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সংবাদ পেয়ে তাদের উদ্ধারে গেলে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গত ৩ মে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে আব্দুল কুদ্দুস ও শাহান বিশ্বাসের নাম পাওয়া গেলে ঘোলদাড়ি ও হাটবোয়ালিয়া ক্যাম্পের পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তে আসামি হিসেবে পাওয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দামুড়হুদা উপজেলার হাউলি গ্রামের মৃত আবদুল ওহাবের ছেলে মো. খোকন আলী (৫৮)। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। অপরজন চিৎলা হাসপাতালপাড়া গ্রামের দীন মোহাম্মদ শেখ ওরফে দিনু মন্ডলের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সাহেব আলী (৫০)। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ জানায়, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. ফাহিম হোসেন সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দামুড়হুদা মডেল থানার মামলা নম্বর-০৮, তারিখ ৬ জুন ২০২৬-এর তদন্তে খোকন আলী ও সাইফুল ইসলাম ওরফে সাহেব আলীকে আসামি হিসেবে পাওয়া যায়। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য ও অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, চোরাকারবারি, মাদক ক্রয়-বিক্রয়কারী এবং দস্যুতা, ছিনতাই ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারসহ অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর