চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর রেলগেটের অদূরে ট্রেনে কাটা পড়ে সামিরণ (৬০) নামের এক বিধবার আটটি ছাগল মারা গেছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ছাগলগুলোর মৃত্যু হয়। এতে দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
সামিরণ মোমিনপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত সাত্তার আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে যে আয় করেন, তা দিয়েই চলে তাঁর সংসার। এর পাশাপাশি তিনি কয়েকটি ছাগল পালন করতেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন সকালে মানুষের বাড়িতে কাজ করতে যান সামিরণ। বিকেলে ছাগলগুলো নিয়ে মাঠে চরাতে বের হন। রোববার দুপুরে ১০টি ছাগল নিয়ে আমিরপুর রেলগেটের অদূরে মাঠে চরাচ্ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে কয়েকটি ছাগল অসাবধানতাবশত রেললাইনের ওপর উঠে যায়। এ সময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রকেট এক্সপ্রেস ট্রেন চলে এলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আটটি ছাগল মারা যায়।
চোখের সামনে ছাগলগুলোর মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সামিরণ। তিনি বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে বেঁচে আছি। অনেক কষ্ট করে ছাগলগুলো পালন করেছি। এই ছাগলগুলোই ছিল আমার বেঁচে থাকার ভরসা। আজ সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব?’
মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। সামিরণের ক্ষতির কথা জেনেছি। পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়দের মতে, আটটি ছাগল হারিয়ে সামিরণ শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়েননি, হারিয়েছেন দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকুও। তাঁর এই দুর্দিনে স্থানীয় বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর