বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন -BHRF এর চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান দেশের সাম্প্রতিক ২৭ সেপ্টেম্বর - ০৩ অক্টোবর সময়কালে মৃত্যু, কারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণ-নির্যাতন এবং প্রতিবন্ধী নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-BHRF। সংগঠনের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সারাদেশে ৬৫টি গণপিটুনির ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। একই মাসে কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৮৪ জন আহত এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ১০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব পরিসংখ্যান দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, গণপিটুনি কোনোভাবেই বিচার প্রতিষ্ঠার বিকল্প হতে পারে না। অপরাধের অভিযোগ উঠলে প্রত্যেক ব্যক্তির আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে হত্যা বা গুরুতর আহত করার ঘটনা আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শুধু মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার যথেষ্ট নয়; দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রতিবন্ধী নারী এবং গৃহকর্মীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, কারা হেফাজত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির জীবন ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কোনো ব্যক্তির হেফাজতে মৃত্যু হলে তার কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা হয়রানি যেন ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের স্বীকারোক্তি, নেত্রকোনায় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, মুন্সীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শ্রীমঙ্গলে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী গৃহকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঢাকায় গৃহকর্মীকে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন এবং ময়মনসিংহে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-BHRF।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন মনে করে, মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গণপিটুনি, হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো প্রতিরোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর