• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৪ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:৩৪ দুপুর

ইরানের ভয়ে যুক্তরাজ্য থেকে বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হুমকির আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৫ অক্টোবর) তিনি বলেন, সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেয়ারফোর্ড ইউরোপে মার্কিন ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলায় এসব বি-১ বোমারু বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে বিমানগুলো সেখানে স্থায়ীভাবে মোতায়েন ছিল না।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বিমানগুলোকে সেখানে রেখে দেওয়ার কোনো কারণ ছিল না। সম্ভাব্য হুমকি থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এতে খুব বেশি খরচও হয়নি। হুমকিটি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, হুমকিদাতাদের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র রয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেন, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার চেষ্টা করে আসছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘটনার সঙ্গে কথিত ইরানি ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগসূত্র থাকার বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সম্পদ ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করে থাকে।

ন্যাটোর একটি সামরিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোর জন্য ইরানকে এখনো বড় ধরনের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামও বলেছেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে যে কোনো ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের সমর্থন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, কথিত ষড়যন্ত্রে ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি লন্ডন থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। ইউরোপে ভারী বোমারু বিমান পরিচালনার জন্য উপযোগী হাতে গোনা কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটির একটি এটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রয়টার্স জানায়, বর্তমান সংঘাতের সময় ব্রিটিশ সরকার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুধু প্রতিরক্ষামূলক হামলার অনুমতি দিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারে লন্ডন অনুমতি দেয়নি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে। তবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে যেকোনো সময় নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা মার্কিন বোমারু বহরের রয়েছে বলেও জানিয়েছে পেন্টাগন।

নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন হুমকি পাওয়ার পর সপ্তাহান্তে দ্রুত বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এমনকি কিছু বিমান উড্ডয়নের সময় সেগুলোর জ্বালানি সরবরাহের জন্য আকাশে ট্যাংকার বিমানও প্রস্তুত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে কয়েকজনকে আটকের পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে ঘাঁটির কাছে তিনটি সাদা ভ্যান থেকে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে মাঠের দিকে দৌড়ে যেতে দেখে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে কিছু পরিমাণ পেট্রোল পাওয়া গেছে।

পরে ওই পাঁচজনকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এর চার দিন পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককেও আটক করা হয়। তাকেও পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে কথিত ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য ছিল ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করা এবং এর সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে আটক ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার বিষয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ক্রিস্টফ বার্গসের মতে, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত হামলা চালানোর সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষামূলক হামলার শর্তের কারণে ঘাঁটিটির ব্যবহার এমনিতেই সীমিত ছিল।

এদিকে ন্যাটোর এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, ফেয়ারফোর্ড থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় জোটের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কোনো প্রভাব পড়বে না। ন্যাটোর ৩২ সদস্য দেশের ঐক্য, শক্তি ও সম্মিলিত সক্ষমতার কারণে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জোটের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি অটুট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাজু/নিএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]