ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের ঘটনায় আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচি বিবেচনা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, পরদিনের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া না হলে তিনি অনশন কিংবা পদযাত্রা করতে বাধ্য হবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ বিরোধী নেতাদের আটকের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়াংচুক। নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে যোগসাজশ এবং নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওয়াংচুক তাঁর পোস্টে ভারতের পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর সময় তিনি কল্পনাও করেননি যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এর আগে শুক্রবারের পোস্টে ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, লাদাখে গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন না। শীতের আগে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম হিমবাহ তৈরি এবং হিমবাহের হ্রদ থেকে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে শনিবার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাদের আটকের খবর পেয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এত নেতা উপস্থিত থাকায় তিনি খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, তাঁদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওয়াংচুক তরুণদের শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।
এর আগে গত জুলাইয়ে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় ২১ দিনের অনশন চলাকালে ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। পরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই অনশন শেষ করেন। এরপর ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ে এবং ২৫ জুলাই বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর