চট্টগ্রামের একজন রেস্তোরাঁ মালিক রহমান মিজান তাঁর Living Raw With Mizan নামক পেইজ থেকে ফুডপান্ডাকে ডিজিটাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মতো শোষক আখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন হিসেব কষে দেখিয়েছেন রেস্তোরাঁ মালিকদের কি পরিমাণ অর্থ ফুডপান্ডা কেড়ে নিচ্ছে৷ এই প্রসঙ্গে রহমান মিজান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সম্প্রতি আমাদের চট্টগ্রামের রেস্তোরাঁ মালিকদের নিজস্ব গ্রুপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষন করে এই ফেসবুক পোষ্টটি শেয়ার করেছি৷ ফুডপান্ডা ফুডডেলিভারির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিপুল অর্থ তার নিজ দেশ জার্মানিতে নিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ তাদের লাভের টাকা পুরোটাই বিদেশে চলে যাচ্ছে৷ এরপরও তারা যদি প্রকাশ্য ঘোষিত কমিশন আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো তাহলে আমরা ভোক্তাদের ঘরে খাবার পৌছে দিতে তাদের সাথে ব্যবসা চলমান রাখতাম৷ কিন্তু বর্তমানে ফুডপান্ডা লোভি পান্ডাতে পরিণত হয়েছে৷ বিষয়টি খোলাসা করতেই মূলত আমার এই পোষ্ট শেয়ার করা৷
*আমাদের সম্মানিত পাঠকদের জন্য Living Raw With Mizan পেইজে করা লোভি panda ছবি যুক্ত পোষ্টটি হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো৷*
ফুডপ্যান্ডা বর্তমানে যা করছে, তা কি ব্যবসা নাকি ডিজিটাল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো শোষণ? বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য (Monopoly) থাকার সুযোগ নিয়ে তারা রেস্টুরেন্ট মালিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিচ্ছে।
একটু হিসাব করে দেখুন, আপনার কষ্টের অর্জিত আয়ের কতটা অংশ তারা কেড়ে নিচ্ছে:
১. অ্যাভয়েডেবল ওয়েটিং টাইম (Avoidable Waiting Time - AWT):
* প্রথম ইনস্ট্যান্সে ৩৮ টাকা, এরপর প্রথম ৮ মিনিটের জন্য ২৩ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি মিনিটের জন্য ৫ টাকা কাটা হয়।
* অর্থাৎ, মাত্র ১ মিনিট দেরি হলেও একটি ৩০০ টাকার অর্ডারে আপনার কাটা যাচ্ছে (৩৮ + ২৩) = ৬১ টাকা!
* দিনে যদি এমন ৫টি অর্ডারে লস হয়, তবে মাস শেষে আপনার পকেট থেকে অন্যায্যভাবে চলে যাচ্ছে ৯,০০০ টাকা।
২. অর্ডার ক্যানসেলেশন ফি (Cancellation Penalty):
* রেস্টুরেন্টে স্টক শেষ হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রতিবার অর্ডার ক্যানসেল হলেই ৭০ টাকা জরিমানা কাটা হয়!
* দিনে গড়ে ৫টি ক্যানসেলেশন হলে মাসে ১৫০টি ক্যানসেলেশনে খেসারত দিতে হয় ১১,২৫০ টাকা।
* শুধু AWT এবং ক্যানসেলেশন ফি মিলিয়েই মোট সেলের অন্তত ৫% হাওয়া হয়ে যায়।
৩. কমিশন ও অন্যান্য চার্জ (Commission & Fees):
* মিনিমাম কমিশন: ২২%
* ভ্যাট অন সার্ভিস: ৩.৫%
* অনলাইন পেমেন্ট ফি: ১.৫%
* মোট কাটতি: প্রতি অর্ডারে সর্বনিম্ন ২৭%।
৪. অফার বা ডিসকাউন্টের ওপর কমিশন:
* সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো—যে ডিসকাউন্ট রেস্টুরেন্ট নিজে দিচ্ছে, ফুডপ্যান্ডা সেই ডিসকাউন্টের টাকা থেকেও ২৭% কমিশন কেটে নিচ্ছে! এমন নিয়ম পৃথিবীর কোথায় আছে?
৫. CPC ও বাধ্যতামূলক ডিসকাউন্ট:
* CPC (Cost Per Click): বিজ্ঞাপনের বাজেট না দিলে ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা থাকে না। এমনকি তাদের কে মোট বিক্রয়ের ৫-৭%-এর কম বাজেট দিলে তারা তা বাতিল করে দেয়।
* ডিসকাউন্ট: ১৫%-এর নিচে ডিসকাউন্ট দিলে সেল কনভার্ট হয় না, আর প্যান্ডা-প্রো (PandaPro) গ্রাহকদের জন্য ২০%-এর নিচে ডিসকাউন্ট দেওয়া যায় না। অর্থাৎ গড়ে ১৭.৫% ডিসকাউন্ট দিতেই হয়।
* (এছাড়া প্যান্ডা বক্সের ২৫% ডিসকাউন্টের কথা না হয় বাদই দিলাম!)
হিসাবের যোগফল:
* কমিশন ও ডিসকাউন্ট মিলিয়ে: ৪৯.৫%
* AWT ও ক্যানসেলেশন ফি থেকে: ৫%
* সর্বমোট কাটতি: অন্তত ৫৪.৫%!
দিনে-রাতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে, স্টাফদের বেতন-বোনাস দিয়ে, ইউটিলিটি বিল ও দোকান ভাড়া মিটিয়ে দিনশেষে রেস্টুরেন্ট মালিকদের হাতে থাকে সর্বোচ্চ ৪৫.৫%। আমরা কি জমি আমাদের রেখে ফুডপ্যান্ডার জন্য 'নীল চাষ' করছি?
হিডেন চার্জের টাকা যাচ্ছে কোথায়?
* গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা অর্ডারে ২৩ থেকে ৫৩ টাকা পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ফি নিচ্ছে।
* রাইডারদের নামে টিপস এবং প্রিমিয়াম ডেলিভারির নামে অতিরিক্ত টাকা কাটছে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোথায় যায়?
* কোনো রেস্টুরেন্ট বা রাইডার এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে রেস্টুরেন্টের ডেলিভারি এরিয়া কমিয়ে দেওয়া হয় আর রাইডারদের ব্যাজ কমিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়।
আমাদের এখন করণীয় কি? শুধু একচ্ছত্র ক্ষমতার জোরে তারা যা ইচ্ছা তাই চাপিয়ে দিচ্ছে। এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর এবং অলটারনেটিভ প্লাটফর্ম গুলো কে শক্তিশালী করার। এমন কিছু নীতিমালা তৈরি করা দরকার যেনো ভবিষ্যতেও অন্য কোন প্লাটফর্ম এমন সেচ্ছাচারীতা করতে না পারে!
ফুডপ্যান্ডার এই ডিজিটাল শোষণের বিরুদ্ধে সব রেস্টুরেন্ট মালিকদের এক হওয়া এখন সময়ের দাবি!
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর