নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামীর নির্যাতন ও যৌতুকের চাপে সুবর্ণা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সুবর্ণার বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। নিহত সুবর্ণা এক সন্তানের জননী ছিলেন।
মামলার নথি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে যোগেন্দ্রনগর ভাটোপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আলামিন হোসেনের সঙ্গে মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে সুবর্ণা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই বছর বয়সী আরিশা খাতুন নামে এক শিশুকন্যা রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, স্বামীর পরকীয়া ও পারিবারিক কলহ নিয়ে সুবর্ণার ওপর নির্যাতন চালানো হতো।
গত ১১ অক্টোবর রাতে স্বামী আলামিনের সঙ্গে সুবর্ণার কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে ১২ অক্টোবর সকালে সুবর্ণা নিজ ঘরে বিষপান করেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুবর্ণাকে ফেলে রেখে তার গহনা ও শিশুকন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী ও শাশুড়ি। পরে তাকে পুনরায় গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
সুবর্ণার বাবা গোলাম মোস্তফা ও ভাই হাফিজুল ইসলামের অভিযোগ, স্বামী ও শাশুড়ির পাশবিক নির্যাতনের কারণেই সুবর্ণা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর