‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) খুলনা চ্যাপ্টার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং পোস্টার, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-১-এর চতুর্থ তলায় আলোচনা সভা, প্রবন্ধ উপস্থাপন ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য এবং নগর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক ও নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) খুলনা চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই বসতি গড়ে তোলা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের জীবনমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়, পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে পরিকল্পিত আবাসন, উন্নত সড়কব্যবস্থা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সবুজায়ন এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। খুলনাকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।”
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত পোস্টার, প্রামাণ্যচিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। নগরায়ণ, পরিকল্পিত বসতি ও টেকসই নগর উন্নয়নবিষয়ক বিভিন্ন সৃজনশীল উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিকল্পনাবিদ, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব বসতি দিবসের মূল লক্ষ্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বসতির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। দ্রুত নগরায়ণের এ সময়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, সবার জন্য আবাসন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো দিবসটির আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর