সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। রাজধানীজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কাজ। শরতের আবহে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা, শুক্রবার সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে উঠবে ঢাকের বাদ্য।
ষষ্ঠীর আগেই সব আয়োজন সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও শিল্পীরা। রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এবারের মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরা হয়েছে জলজ জগতের সৌন্দর্য।
বনানী মণ্ডপের থিম আর্টিস্ট পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, জলের নিচে থাকা সুন্দর উপাদানগুলোর মধ্যে ঝিনুক ও শঙ্খ অন্যতম। এগুলোকে কেন্দ্র করেই প্রতিমার পেছনের সাজসজ্জা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিমা স্থাপনের পর তার রং ও দাঁড়ানোর ভঙ্গিসহ বিভিন্ন উপস্থাপনায় জলজ জগতের প্রতিফলন থাকবে।
ধানমণ্ডি এলাকার অন্যতম বড় দুর্গাপূজার আয়োজন হয় কলাবাগান মাঠে। সেখানেও প্রস্তুতি প্রায় শেষ। প্রতিমা আসার আগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপের আশপাশে টহল দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। একই সঙ্গে চলছে সাজসজ্জার শেষ পর্যায়ের কাজ।
মণ্ডপের এক শিল্পী জানান, এখন কাজের সূক্ষ্ম সমন্বয় ও শেষ মুহূর্তের ঘষামাজার কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলেই শুরু হবে আলোকসজ্জা স্থাপনের কার্যক্রম।
শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির। সেখানেও শুরু হয়েছে দর্শনার্থী ও ভক্তদের আনাগোনা। কেউ ভক্তিভরে আরতি উপভোগ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ধারণ করছেন উৎসবের মুহূর্ত।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে সার্বিক পরিবেশ ও সরকারের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা। উৎসবকে আনন্দমুখর করতে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখতে চান না আয়োজকেরা।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, এবার পূজার অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। এ বিষয়ে আমরা আশ্বস্ত ও আশাবাদী। অনুদান ও ছুটির সংখ্যা বেড়েছে, ফলে আনন্দ-উৎসবও বাড়বে বলে আশা করছি।
এবার ঢাকা মহানগরে ২৫৭টি এবং সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।
বছর ঘুরে আবারও মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পাঁচ দিনের জন্য কৈলাস ছেড়ে বাবার বাড়িতে আসবেন তিনি। এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় ঘোড়ায় আগমনকে কিছুটা অস্থিরতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এ নিয়ে ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বিদায়ের সময় দেবী নৌকায় করে কৈলাসে ফিরে যাবেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নৌকায় গমনকে পৃথিবীতে শস্য-শ্যামল পরিবেশ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সব প্রস্তুতি শেষে এখন দেবীর আগমনের অপেক্ষায় রাজধানীসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপ। ঢাকের বাদ্য, আরতি আর আলোকসজ্জায় শুক্রবার থেকেই মুখর হয়ে উঠবে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর