ত্বকের র্যাশ, চুলকানি কিংবা জ্বালাপোড়ার সমস্যায় অনেকেই ভরসা রাখেন অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জেলে। ত্বক শীতল রাখা, আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং জ্বালাপোড়ার অস্বস্তি কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে সব ধরনের র্যাশ বা অ্যালার্জির ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা সমান কার্যকর নয়। তাই ত্বকের সমস্যায় এটি ব্যবহারের আগে এর উপকারিতা ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা জরুরি।
অ্যালোভেরার জেলে রয়েছে বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদান, যা ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং প্রদাহজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে। ত্বকে এর জেল লাগালে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়, যা হালকা জ্বালাপোড়া ও চুলকানিতে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।
অ্যালোভেরায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে বলিরেখা, কালচে দাগ বা অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ দূর করার ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন।
ঘৃতকুমারীতে ভিটামিন এ ও সি-সহ বিভিন্ন উপাদান থাকলেও, শুধু এসব উপাদানের উপস্থিতির কারণে অ্যালোভেরা ত্বকের ক্ষত সারায়, নতুন কোষ তৈরির গতি বাড়ায় কিংবা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই এটি সানস্ক্রিন বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
ত্বকে অ্যালোভেরা ব্যবহার করতে চাইলে সুগন্ধি ও অ্যালকোহলমুক্ত, বিশুদ্ধ অ্যালোভেরা জেল বেছে নেওয়া ভালো। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প জেল লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন। জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব বা চুলকানি বাড়লে ব্যবহার বন্ধ করুন।
তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করলেও সতর্ক থাকতে হবে। পাতার বাইরের খোসার নিচে থাকা হলুদ রস বা ল্যাটেক্স ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই কাঁচা পাতার জেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই অংশের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
জেল পরিষ্কার ত্বকে অল্প পরিমাণে লাগানো যায়। তবে কতক্ষণ রেখে দিতে হবে বা দিনে কতবার ব্যবহার করতে হবে, তা সবার জন্য এক নয়। ত্বকে অস্বস্তি হলে জেল ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকে প্রয়োজন অনুযায়ী সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
চুলকানি কমাতে কতটা কার্যকর?
অ্যালোভেরার শীতল ও আর্দ্রতা ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য হালকা চুলকানি বা ত্বকের জ্বালাপোড়ায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে চুলকানির কারণ যদি একজিমা, ছত্রাকের সংক্রমণ, খোসপাঁচড়া বা অন্য কোনো ত্বকের রোগ হয়, তাহলে শুধু অ্যালোভেরা ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান হবে না। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে নির্দিষ্ট চিকিৎসা।
এ ছাড়া সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালোভেরা থেকেও অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। তাই ত্বকে র্যাশ দেখা দিলে এর কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
র্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে, তীব্র ব্যথা হলে, জ্বর দেখা দিলে, ফোসকা তৈরি হলে কিংবা কয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বাসকষ্ট বা ঠোঁট, জিহ্বা কিংবা গলা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, অ্যালোভেরা হালকা চুলকানি ও জ্বালাপোড়ায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এটি সব ধরনের ত্বকের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
লাইফ স্টাইল এর সর্বশেষ খবর