মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং তেলবাহী জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনের শুরুতে দাম কিছুটা কমেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ১২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪৩ ডলারে নেমেছে।
জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জরুরি মজুত থেকে দুই কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি গত মার্চে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেলও বাজারে সরবরাহ করা হবে।
অন্যদিকে, তেল পরিবহনের ব্যয় কমাতে নতুন উদ্যোগ বিবেচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন দেশের তেল পরিবহনে যুক্ত কিছু জাহাজের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ওয়াশিংটন।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের ব্যয় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
তবে এসব পদক্ষেপের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার উদ্যোগ সাময়িকভাবে দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাঝুঁকি ও আঞ্চলিক সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর