মসজিদে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদান কিংবা ইউটিউব দেখা—এসব কাজ কি জায়েজ? ফোন ব্যবহারে গুনাহ হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যবহারের উদ্দেশ্য, কাজের ধরন এবং অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটছে কি না, তার ওপর। প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে ফোন ব্যবহার করা গেলেও অপ্রয়োজনীয় বিনোদন এবং মসজিদের পরিবেশ নষ্ট হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর এবং পবিত্র ইবাদতগাহ। এটি আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও দ্বীনি আমলের জন্য নির্ধারিত। তাই মসজিদের আদব ও সম্মান রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মসজিদের পরিবেশ ও আদব বজায় রেখে একান্ত প্রয়োজনীয় এবং বৈধ কাজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে ফোন ঘাঁটাঘাঁটি, গেম খেলা কিংবা বিনোদনে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়। এমনকি ছবি বা ভিডিও দেখার কারণে অন্য মুসল্লিদের মনোযোগ ও ইবাদতে ব্যাঘাত ঘটলেও তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
মসজিদে প্রবেশের আগে ফোন সাইলেন্ট রাখুন
মসজিদে নামাজ ও ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রবেশের আগেই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া অথবা সাইলেন্ট মোডে রাখা উচিত। সম্ভব হলে মসজিদে আসার সময় ফোন সঙ্গে না রাখাই ভালো, যদি তা প্রয়োজনীয় না হয়।
বিশেষ করে ফোনের রিংটোন বা মেসেজের অ্যালার্টের শব্দ যেন অন্য মুসল্লিদের নামাজ, তিলাওয়াত কিংবা জিকিরে বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রিংটোনে গান-বাজনা বা শরিয়তবিরোধী শব্দ ব্যবহার থেকেও বিরত থাকা উচিত।
মসজিদে ফোন এলে কী করবেন?
জরুরি ফোন এলে সম্ভব হলে মসজিদের বাইরে গিয়ে কথা বলা উচিত। বাইরে যাওয়া সম্ভব না হলে এমন স্থানে নিচু স্বরে ও সংক্ষেপে কথা বলতে হবে, যাতে অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে ব্যাঘাত না ঘটে।
বিশেষ করে জামাত চলাকালে কিংবা মুসল্লিরা যখন নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন, তখন ফোনে কথা বলা বা শব্দ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার ব্যবহার কি জায়েজ?
হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান করা যেতে পারে। তবে মসজিদে বসে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, অনৈতিক বিষয়বস্তু দেখা কিংবা এমন কাজে ব্যস্ত থাকা উচিত নয়, যা ইবাদত থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয় বা অন্যের মনোযোগ নষ্ট করে।
একইভাবে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও অপ্রয়োজনে ব্যবহার না করাই উত্তম। বিশেষ করে বিনোদনমূলক ভিডিও দেখা, অনর্থক স্ক্রল করা কিংবা দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটানোর পরিবর্তে মসজিদে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
মোবাইলের ওয়ালপেপারে ছবি থাকলে কী করবেন?
মোবাইলের ওয়ালপেপারে মানুষ বা প্রাণীর ছবি রাখা নিয়ে ধর্মীয় বিধান জানতে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে ছবি বা চিত্রের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধান বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
মসজিদে মোবাইল ব্যবহার করলেই কি গুনাহ?
মসজিদে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই তা গুনাহ—বিষয়টি এমন নয়। বরং ফোনটি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে, কাজটি বৈধ কি না এবং এর কারণে মসজিদের আদব বা অন্য মুসল্লিদের ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।
প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাজে মসজিদের পরিবেশ ও শিষ্টাচার বজায় রেখে ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্যদিকে, অপ্রয়োজনীয় বিনোদন, অনৈতিক বিষয়বস্তু দেখা কিংবা অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। মসজিদের পবিত্রতা, সম্মান ও ইবাদতের পরিবেশ রক্ষা করা প্রত্যেক মুসল্লির দায়িত্ব।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর