• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৭ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:৩৭ দুপুর

শীতের আগে গিজারে পরীক্ষা করবেন যে ৮ বিষয়ে

ছবি: সংগৃহীত

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে গরম পানির ব্যবহার বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ব্যবহারের আগে গিজারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে গিজারের ভেতরে খনিজ পদার্থ জমা, বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি কিংবা পানির পাইপে লিকেজ দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার কারণে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে, বাড়তে পারে বিদ্যুৎ খরচ এবং তৈরি হতে পারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-টিভি১৮-এর ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শীতের আগে গিজারের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আটটি বিষয় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

১. ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্ট পরিষ্কার করুন

পানিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি হলে গিজারের ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্টে আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। পানি গরম করার সময় গিজার থেকে অস্বাভাবিক গড়গড় বা পটপট শব্দ হলে ভেতরে পলি কিংবা খনিজ পদার্থ জমেছে কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পানির গুণমান ও ব্যবহারের মাত্রা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময় পর গিজার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করানো উচিত।

২. অ্যানোড রডের অবস্থা পরীক্ষা করুন

স্টোরেজ গিজারের অ্যানোড রড ট্যাংকের ভেতরে মরিচা ও ক্ষয় রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে রডটি ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। তাই সার্ভিসিংয়ের সময় দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এর অবস্থা পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা উচিত।

গরম পানিতে মরিচার রং দেখা গেলে কিংবা ট্যাংকে ক্ষয়ের লক্ষণ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

৩. সেফটি ভালভ ও থার্মোস্ট্যাট পরীক্ষা করুন

গিজারের সেফটি ভালভ অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্যদিকে, থার্মোস্ট্যাট পানির তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমায় রাখতে কাজ করে। এই দুটি অংশে ত্রুটি দেখা দিলে গিজারের নিরাপদ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

তাই শীতের আগে সেফটি ভালভ ও থার্মোস্ট্যাট সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।

৪. বৈদ্যুতিক সংযোগ ও আর্থিং পরীক্ষা করুন

গিজারে পানি ও বিদ্যুৎ একসঙ্গে ব্যবহৃত হওয়ায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শীত শুরুর আগে তার, প্লাগ, সকেট, আর্থিং এবং সংশ্লিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত।

তারের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পোড়া দাগ, ঢিলা সংযোগ কিংবা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈদ্যুতিক ত্রুটির সন্দেহ হলে গিজার ব্যবহার বন্ধ রেখে দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সহায়তা নিন।

৫. পানির পাইপ ও সংযোগে লিকেজ আছে কি না দেখুন

গিজারের পানির প্রবেশ ও নির্গমন পাইপে ফাটল, ঢিলা সংযোগ কিংবা লিকেজ থাকলে পানি অপচয় হতে পারে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে আশপাশের দেয়াল ও মেঝেতেও ক্ষতি হতে পারে।

তাই গিজারের চারপাশে পানি জমছে কি না, পাইপে মরিচা ধরেছে কি না কিংবা পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে টেকনিশিয়ানের সহায়তায় মেরামত করান।

৬. অপ্রয়োজনে গিজার চালু রাখবেন না

পানি প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় পৌঁছালে গিজার বন্ধ করে দেওয়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার সুবিধা থাকলেও যন্ত্রটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

পাশাপাশি গিজারের তাপমাত্রা নির্ধারণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলুন। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি নিরাপদ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

৭. অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

গিজারের পানি গরম হতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগা, অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া, গরম পানিতে মরিচার রং দেখা কিংবা পানি চুইয়ে পড়া—এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। এগুলো যন্ত্রের ভেতরে খনিজ পদার্থ জমা, ক্ষয় কিংবা অন্য কোনো ত্রুটির ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সংযোগে সমস্যা, পোড়া গন্ধ বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে গিজার বন্ধ করে নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন। এরপর দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করান।

৮. শীত শুরুর আগেই সার্ভিসিং করান

শীতের সময় গরম পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গিজারের ওপর চাপও বাড়ে। তাই শীত শুরু হওয়ার আগেই গিজার পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করানো ভালো। এতে সম্ভাব্য ত্রুটি আগেভাগে শনাক্ত করা যায় এবং ব্যস্ত মৌসুমে হঠাৎ গিজার অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে।

গিজারের মডেল, ব্যবহারের মাত্রা, পানির গুণমান এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সার্ভিসিংয়ের সময় নির্ধারণ করা উচিত। যেসব এলাকায় পানিতে খনিজ পদার্থ বেশি, সেখানে গিজারের ভেতরে আস্তরণ জমার আশঙ্কা থাকায় তুলনামূলক ঘন ঘন পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

শীতের আরামদায়ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গিজারের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও পানির সংযোগের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সামান্য অবহেলা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]