মাতৃত্বের আনন্দের পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় নতুন মায়েদের। বিশেষ করে নবজাতকের একটানা কান্না বা অস্বস্তি অনেক সময় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনই এক পরিস্থিতিতে বলিউড অভিনেত্রী কাজলের একটি পরামর্শে উপকার পেয়েছিলেন ‘দৃশ্যম’খ্যাত অভিনেত্রী ইশিতা দত্ত। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
ইশিতা জানান, তাঁর ছেলে বায়ু ছোটবেলায় কোলিকের সমস্যায় ভুগত। এ সমস্যায় শিশুরা দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করতে পারে। ছেলের কান্না থামাতে না পেরে বেশ অসহায় বোধ করছিলেন অভিনেত্রী। তখনই বিষয়টি নিয়ে কাজলের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দুই সন্তানের মা কাজল নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ইশিতাকে একটি সহজ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শিশুকে প্র্যামে বসিয়ে বাইরে এমন কোনো পথে নিয়ে যেতে, যেখানে মাটি কিছুটা অসমান। সেখানে প্র্যাম ঠেলে নিয়ে গেলে হালকা দুলুনিতে শিশু শান্ত হতে পারে।
কাজলের পরামর্শ মেনে দেখেন ইশিতা। তাঁর দাবি, পদ্ধতিটি সত্যিই কাজে এসেছিল। ছেলের অস্বস্তি কমাতে সেই পরামর্শ তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করেছিল।
তবে শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, সন্তান লালন-পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজলের কাছ থেকে নানা পরামর্শ পেয়েছেন বলে জানান ইশিতা। ছোটখাটো অনেক সমস্যা নিয়েই তাঁদের আলোচনা হতো। সব পরামর্শের কথা এখন মনে না থাকলেও কাজলের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।
ইশিতা আরও জানান, কাজল তাঁর দুই সন্তান বায়ু ও বেদাকে ভীষণ ভালোবাসেন। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতেও বেশ স্বচ্ছন্দ এই বলিউড অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত, অভিনেতা বৎসল শেঠের সঙ্গে সংসার করছেন ইশিতা দত্ত। তাঁদের দুই সন্তান বায়ু ও বেদা। অন্যদিকে, অভিনেতা অজয় দেবগন ও কাজলের দুই সন্তান নাইসা ও যুগ।
সন্তান লালন-পালন নিয়ে এর আগেও নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কাজল। বিশেষ করে মেয়ে নাইসার কৈশোরে মা-মেয়ের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।
কাজলের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের কৈশোরে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ ও তর্ক হতো। পরে পরিস্থিতি সামলাতে মেয়ের সঙ্গে বেশি সময় কথা বলা এবং তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এতে ধীরে ধীরে তাঁদের সম্পর্কের উন্নতি হয়।
ইশিতার এই অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সন্তান লালন-পালনে অভিজ্ঞ অভিভাবকদের পরামর্শ অনেক সময় নতুন মায়েদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন আলাদা। নবজাতককে শান্ত করতে অসমান বা পাথুরে পথে প্র্যাম চালানো নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এতে অতিরিক্ত ঝাঁকুনি ও আঘাতের ঝুঁকি থাকতে পারে। শিশুর কান্না দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর