নেত্রকোনায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় কৃষকদের সচেতন করতে পরামর্শ ও সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও ক্যাপোর্ড এর সহযোগিতায় আব্দুর রহমান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এআরএফবি) কার্যালয়ে এ সেশনের আয়োজন করা হয়।
এআরএফবির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক দিলওয়ার খানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেশন শুরু হয়। এতে বেলা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুবি এবং কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও পরামর্শ প্রদান করেন। সেশনে ২৫ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
সেশনে বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই কৃষি উৎপাদনব্যবস্থাকে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা, উপকারী অণুজীব এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদিত খাদ্যের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্যের ওপর। তাই কৃষিতে পরিকল্পিত ও পরিমিত সার ব্যবহার, জৈব সার প্রয়োগ এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এআরএফবির চেয়ারম্যান দিলওয়ার খান বলেন, কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। কৃষকরা সুস্থ মাটি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ কৃষিচর্চা ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বেলা ময়মনসিংহ বিভাগীয় কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুবি বলেন, মাটি, পানি ও পরিবেশের সুরক্ষা ছাড়া টেকসই কৃষি সম্ভব নয়। কৃষিজমিতে অপরিকল্পিত রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার কমাতে হবে। কৃষিজমির উর্বরতা ধরে রাখতে জৈব সার, কম্পোস্ট ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনে পরিবেশগত আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন হওয়া জরুরি।
কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সুষম সার ব্যবস্থাপনা, মাটির পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ, ফসলের পর্যায়ক্রমিক চাষ, জৈব সার ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার না করে কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি মাটির উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মান বজায় থাকবে।
সেশনে কৃষকদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, কীটনাশকের নিরাপদ প্রয়োগ এবং কৃষি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী কৃষকেরা তাঁদের কৃষিকাজের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন।
আয়োজকেরা জানান, কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং নিরাপদ ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ ধরনের পরামর্শমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর