সন্তানের মতোই আদর-যত্নে বিড়ালটিকে লালন-পালন করতেন শামসুল আলম। বাড়ির পেছনে ছাগল চরাতে গেলে পোষা বিড়ালটিও তার পিছু নিত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ছাগল বেঁধে দিতে গিয়ে বিড়ালটিকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের সঙ্গে বিড়ালটির বিরোধকে কেন্দ্র করে সেটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক নারীর বিরুদ্ধে।
প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে হারিয়ে বিচারের দাবিতে শেষ পর্যন্ত বিড়ালটির মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির হন শামসুল আলম।
তার অভিযোগ, প্রতিবেশী ফরিজা বেগম লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার পোষা বিড়ালটিকে হত্যা করেছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীর পাড়ার বাসিন্দা শামসুল আলম লোহার খাঁচায় বিড়ালটির মরদেহ নিয়ে চকরিয়া থানায় যান। এ ঘটনায় তিনি ফরিজা বেগমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
শামসুল আলমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিড়ালটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে লালন-পালন করে আসছিলেন তিনি। সোমবার সকালে বাড়ির পেছনের একটি খালি জায়গায় নিজের পোষা ছাগল চারণের জন্য বেঁধে দিতে গেলে বিড়ালটিও তার পেছনে যায়। এ সময় প্রতিবেশী ফরিজা বেগমের পোষা কুকুরটি বিড়ালটিকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে। শামসুল আলম কুকুরটিকে তাড়া করে সরিয়ে দেন। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে ফরিজা বেগম লাঠি দিয়ে বিড়ালটিকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করেছেন শামসুল আলম।
প্রিয় পোষা প্রাণীটিকে হারিয়ে শামসুল আলম বলেন, ‘এই বিড়াল আমার সন্তানের মতো। কোনো অপরাধ ছাড়াই ওকে এভাবে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো, যা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। বিড়াল হত্যায় জড়িত নারীর কঠিন শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো অবলা প্রাণীর প্রতি এমন আচরণ করার সাহস না দেখায়।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিজা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, অবলা প্রাণী হত্যা করাও আইনগত অপরাধ। পোষা বিড়াল হত্যার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর