কিশোরগঞ্জে সার ডিলার নিয়োগে সিন্ডিকেট, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদিত তালিকায় সংরক্ষিত আসনের এমপির আত্মীয়, বিএনপি নেতাদের স্বজন এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম থাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে গত রোববার এক ফেসবুক লাইভে কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আন্দোলন করলাম, মামলা খেলাম, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলাম, আর এখন ডিলারশিপ পাচ্ছেন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
অভিযোগ অনুযায়ী, বড়ভিটা ইউনিয়নে হাবিব ট্রেডার্স (আহসান হাবিব), পুটিমারীর মেসার্স ছোয়াদ ট্রেডার্স (জুয়েল রানা), নিতাই ইউনিয়নে মেসার্স জান্নাত ট্রেডার্স (রোকসানা আফরোজ), বাহাগিলী ইউনিয়নে জিহাদ ট্রেডার্স (জাহিদুল হক), চাঁদখানা ইউনিয়নে মেসার্স সুজন এন্টারপ্রাইজ (বিথী আকতার), কিশোরগঞ্জ ইউনিয়নে মেসার্স এ কে এম ট্রেডার্স (আফসার আলী), রনচন্ডী ইউনিয়নে ট্রেড লিংক প্রমোশন (এ এস এম রুবায়েত ফারমান) এবং গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স মোমেনা ট্রেডার্স (ফজলে রাব্বী)-কে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এনামুল হক আরও অভিযোগ করেন, রনচন্ডীর ডিলারশিপ পেতে ২৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এছাড়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের স্বজনদের ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে সিন্ডিকেট কাজ করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ফেসবুকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুলু এবং কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিনারুল ইসলামসহ অনেকে। মিনারুল ইসলাম জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই তালিকা বাতিল করে নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পুনরায় ডিলার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব লোকমান আলম জানান, জেলা থেকে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা তদন্ত সাপেক্ষে তালিকা জেলায় প্রেরণ করেছেন।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর