ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর স্বল্পমেয়াদি কিন্তু ব্যাপক আকারের সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে দুই দেশ। তবে এ পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী মহড়া জোরদার করেছে। হামলার কৌশল অনুশীলনের জন্য ইরাকের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমানও উড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার থাকতে পারে। কয়েকজন কর্মকর্তা মনে করছেন, আরেক দফা বড় ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে এবং তেহরানকে কূটনৈতিক ছাড় দিতে বাধ্য করতে পারে।
তবে নতুন করে সামরিক অভিযান চালালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের ওপর পেন্টাগনের চাপ বাড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর একাধিকবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পরিকল্পনায় আপত্তি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চলতি মাসেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী হামলার জন্য প্রায় প্রস্তুত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি অনুমোদন করা হয়নি।
ফলে সামরিক পরিকল্পনা এগিয়ে চললেও ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত। সম্ভাব্য অভিযান ইরানের অবস্থানে পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়াবে—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর